শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ধানমণ্ডি খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন-সমাবেশ

ধানমণ্ডি খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন-সমাবেশ

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

রাজধানীর ধানমণ্ডি খেলার মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন। শুক্রবার সকালে ধানমণ্ডি খেলার মাঠের সামনে ‘অবিলম্বে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করে ধানমণ্ডি মাঠ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে’ এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধন পরবর্তী নাগরিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি মহল কীভাবে ধানমণ্ডি খেলার মাঠ দখল করে রেখেছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এ মাঠটি দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

‍নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাবেক সভাপতি জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, পশ্চিম ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড প্রভৃতি এলাকার হাজারো শিশু-তরুণ-যুবক ২০/২৫টি ছোট-বড় ক্লাব বা গ্রুপের খেলাধুলা ও শরীর চর্চা, বয়স্ক ও রোগীদের হাঁটাহাঁটি বন্ধ করে মাঠটি দখল করে রেখেছে একটি মহল। প্রাণপ্রিয় মাঠটি হারিয়ে সাধারণ মানুষ আজ মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ।

সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত বলেন, অতীতে আমরা ভূমি দস্যু দেখেছি, চর-নদী-জলাধার দখলদার দেখেছি। এখন শুরু হয়েছে মাঠ দখলদার। শিশু-কিশোরদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ধানমণ্ডি মাঠটি এই মহল তাদের প্রয়োজনে দখল করে রেখেছে। আমাদের সকলের চোখের সামনে এমন একটি অন্যায় কাজ আমরা মেনে নিতে পারি না। শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষের এই প্রিয় মাঠটি ফিরিয়ে দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।

বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো ক্লাব বা ব্যক্তি স্বার্থে ধানমণ্ডি মাঠ নয়, এই মাঠ জনগণের স্বার্থে। অনতিবিলম্বে মাঠের ভেতরে সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে মাঠটি উন্মুক্ত করে দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এ ব্যাপারে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান নারী নেত্রী খুশী কবির।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, এই মাঠটি সকল খেলোয়াড়, এলাকাবাসী ও সাধারণ জনগণের। এখানে যে কেউ ইচ্ছে হলেই প্রবেশ করবে, খেলাধুলা করবে, বেড়াবে এটাই ছিল এর স্বাভাবিক চরিত্র। তাই এই মাঠ কোনোভাবেই একক মহলের স্বার্থে ব্যবহার হতে পারে না। মাঠটিতে অতীতের মত সকলের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত হোক এটিই জনগণের দাবি।

বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীও আজ সোর্চ্চার। আমরা আশাবাদী জনগণের মাঠ জনগণ অবশ্যই ফিরে পাবে।

জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, একটি ক্লাবের নামে ও তাদের সদস্যদের জন্য শুধুমাত্র এই মাঠটি ব্যবহৃত হতে পারে না। তাছাড়া শেখ জামাল ক্লাবের খেলোয়াড়রা এই মাঠের ওপর নির্ভরশীল নয়, তারা এই মাঠে খেলেও না। তাহলে কেন তারা শেখ জামালের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষদের বঞ্চিত করে এই মাঠ দখল করে রাখবে।

বক্তারা সমাবেশ পাঁচটি দাবি উপস্থাপন করেন।  দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে ধানমণ্ডি মাঠের ভিতরে সকল স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে; আদালতের নির্দেশনা মেনে আর কালক্ষেপণ না করে ধানমণ্ডি মাঠকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে; ধানমণ্ডি ক্লাব বা শেখ জামাল ক্লাব লি. সহ সকল বেআইনি দখলদারদের মাঠ উন্নয়নের নামে অধিকার বহির্ভূত ও স্ব-ঘোষিত কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। তবে এই মাঠে তাদের খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ অব্যাহত থাকবে; বেআইনি দখলদারদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং ধানমণ্ডি মাঠ ব্যবস্থাপনায় এলাকাবাসী ও অন্য নাগরিক ও ক্রীড়াবিদদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

বাপা’র জাতীয় পরিষদ সদস্য ও আইএবি’র সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন’র সভাপতিত্বে এবং বাপা’র যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর কবির’র পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইপি’র সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, সাবেক তারকা ক্রিকেটার জাবেদ ওমর বেলিম, বাপা’র যুগ্ম-সম্পাদক সালমা এ শফি, ধানমণ্ডির বাসিন্দা সাবেক সচিব সোহেল চৌধুরী, মঞ্জুর এ মতিন, কামাল শরীফ, ডেন’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ডা. শাকিল আখতার, গ্রিন ভয়েস’র হুমায়ুন কবির সুমন, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ইবনুল সাঈদ রানা, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের মারুফ রহমান, পরিবর্তন চাই’র ফিদা হক, নাগরিক উদ্যোগের এবিএম আনিসুজ্জমান, মেঘ রোদ্দুর খেলাঘর আসর’র আতিকুল হক খান প্রমুখ।

আন্দোলনে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), গ্রিণ ভয়েস, সবুজ পাতা, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোশিয়েশন, সিডাস, সেবা, পিস, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, পরিবর্তন চাই, আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক), সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ, নিজেরা করি, নাগরিক উদ্যোগ, সুন্দর জীবন, বিআইপি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়াটিভ, সিটিজেন রাইটস মুভমেন্ট, বারসিক, জাতীয় অধুমপায়ী ফোরাম, সার্চ স্কেটিং ক্লাব, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ডেন), মাস্তুল, রক্ত সৈনিক, মেঘ রোদ্দুর খেলাঘর আসর, ছাত্র ইউনিয়নসহ ৫০টিরও অধিক পরিবেশবাদী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ