বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল বৃদ্ধি, এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগ এবং উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এবং দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি। এ সময় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতালি সরকারের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পর ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল সুবিধাসম্পন্ন হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে ইতালির এজ কোম্পানি (Edge Company), আতিতেক এসপিএ (Atitech S.p.A.) এবং জিলারদোনির (Gilardoni) অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘রেড জোন’ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশে ইতালীয় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতাও গুরুত্ব পায়। পর্যটন আকর্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে মত প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল, এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ এবং পর্যটন উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।




