বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সেখানে শেখ হাসিনা ও ভারতে অবস্থানরত অন্যদের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্কের জন্য এসব বিষয় ভারতকে বিবেচনা করা উচিত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকেই চাইছি, আমরা ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে চাইব না কেন? এজন্য ভারত সরকারের কাছেও আহ্বান জানাতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু শেখ হাসিনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘসময়ের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অনেক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার বর্বরতা বহু আগে থেকে চলছে, ওভার দ্য ইয়ার্স চলেছে। সুতরাং নানা ফর্মে নানা মানুষ সেই বর্বরতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তারা সেখানে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও নসিহত দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের মানুষকে আঘাত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের এই সংবেদনশীলতা বুঝবে এবং সংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাব। না চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দল হিসেবে বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে রয়েছে। এর কাছাকাছিও সাফার কেউ করেনি। অনেকে করেছেন, কিন্তু কালেক্টিভলি চিন্তা করলে এর চেয়ে বেশি সাফার কোনো দল করেনি। সুতরাং এই দল এই বিচার নিশ্চিত করতে চাইবেই।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে সম্পর্ক তৈরি ও কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, উনি স্বীকার করেন ইস্যুজ আছে, কিন্তু এর বাইরেও সম্পর্ক তৈরি বা এনগেজমেন্টের ব্যাপারে তিনি জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে তিনি ভারতের কাছে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন– কিছু বিষয়ে ভারতের সংবেদনশীলতা যেমন রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেরও কিছু সংবেদনশীলতা আছে। এক্ষেত্রে ভারতের কিছু উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি শেখ হাসিনার একটি প্রেস কনফারেন্সের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার ওই প্রেস কনফারেন্সের ঘটনায় বাংলাদেশে বিক্ষোভ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি প্রেস কনফারেন্স বাতিল করা হয়েছিল। এ ধরনের উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।




