জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশের বাস্তবায়ন অগ্রগতি জনগণের সামনে পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ আগস্ট বিরোধী দলগুলোর কাছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন। এ আহ্বানকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও বিরোধী দলের পরিকল্পনা নতুন নয়। গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। ৭ জুন সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আজকের মূল প্রশ্নটি পরিকল্পনা আছে কি নেই, সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ২১ মে থেকে সরকারের হাতে থাকা এই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোন সুপারিশে কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনো কাগজেই পড়ে আছে।’
তিনি জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত ফলদায়ক কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) দ্রুত চালু করা এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আগামী ৯০ দিনে ছয়টি কাজ করার প্রস্তাব দেন জামায়াতের এই নেতা। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বাড়ানো, সিস্টেম লস ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি এবং এসপিএম ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ দ্রুত কার্যকর করা।
তিনি বলেন, তিন মাসে সমুদ্রের নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের ফল পাওয়া বা বড় নতুন পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
নতুন এফএসআরইউ নির্মাণের বিরোধিতা না করলেও শুধু তৃতীয় এফএসআরইউ দিয়ে গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, এফএসআরইউ নিজে গ্যাস উৎপাদন করে না; এর জন্য এলএনজি আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রা এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন দরকার।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর সমাধান ও জবাবদিহির প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের পরিকল্পনা সরকারের কাছেই রয়েছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে, নাকি আবার নতুন পরিকল্পনা ও কমিটির অপেক্ষা করতে হবে—সেটিই প্রশ্ন। ৯০ দিন পর এর হিসাব চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




