জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আরেকটি ফ্যাসিবাদ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত গণতন্ত্রে উত্তরণে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমীর বলেছেন নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে হলে নাকি জেনোসাইড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এটা বলে কি গোটা জাতিকে হুমকি দিলেন? জেনোসাইড হবে কেন? আমরা তো জেনোসাইড বন্ধ করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, বিপুল মানুষ নিজের জীবন দিয়ে একটি রক্তপিপাসু সরকারকে সরিয়েছে। আপনি এই আশঙ্কা করলেন কেন? আপনি তো একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। আপনি প্রচুর গণহত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এটা তো একটা আতঙ্ক তৈরি করছেন।
‘আপনারা চাচ্ছেন গণভোট যাতে আগে হয়। বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দল বলেছে আগে যদি গণভোট করা হয় তাহলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। গণভোট এবং নির্বাচন একদিনে করলে ভালো হবে। এই ডিবেটটা চলছে। গণতন্ত্র মানেই তো হচ্ছে ডিবেট এবং ডিসকাশন। কিন্তু আপনি সেখানে জেনোসাইডের ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন! আপনি একটি রক্তগঙ্গা বইবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন! এটা তো ভয়াবহ ব্যাপার। জেনোসাইড শেখ হাসিনা করার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী জেনোসাইড করেছে। আপনি জেনোসাইডের হুমকি দিচ্ছেন, এটা তো জনগণ ভালোভাবে নেবে না। আপনি তো খুব বিপজ্জনক কথা বলেছেন। এ বিষয় নিয়ে আমি পুরো জাতিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পটুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ভূমিদস্যুরা ঢাকা শহরের খাল-বিল ও নদী ধ্বংস করেছে। অনুমোদন না নিয়ে যে যেভাবে পারছে, তলার পর তলা উঠিয়ে দালান তৈরি করছে। কিন্তু সেদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কোনো নজর নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা খাল ও নদী ধ্বংস করে, সেই ভূমিদস্যুরাই আবার রাজনৈতিক দলের নেতা হয়, অবৈধ উপায়ে বিত্তশালী হয়। শেখ হাসিনার আমলেই এমন ঘটনা বেশি ঘটেছে।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের দলের মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী শনিবার (২২ নভেম্বর) বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জন্য আজকের এই সুযোগ ভবিষ্যতে আর আসবে না। দুর্নীতির টাকা বাদ দেন, পার্শ্ববর্তী দেশ হিন্দুস্তান থেকে বস্তা বস্তা টাকা দেশে ঢুকবে। আর অস্ত্র ঢুকবে। আমাদের আমিরে জামায়াত যদি থাকতো আমি বলতাম, নির্বাচন শুধু জনগণকে দিয়ে নয়। আমি ন্যাশনালি বলবো না, যার যার নির্বাচনি এলাকায়– যারা প্রশাসনে আছে, তাদের অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেফতার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’




