শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের সঙ্গে প্রধান নির্বাহীর বিরোধ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের সঙ্গে প্রধান নির্বাহীর বিরোধ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ তদন্ত করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে গত রোববার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।

দুই সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব মো. ফিরোজ মাহমুদ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র কর্তৃক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বদলিপত্র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদানপত্রসহ সার্বিক বিষয়ে কমিটি তদন্ত করবে। তবে কবে নাগাদ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, তার সময়সীমা স্পষ্ট করা হয়নি অফিস আদেশে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, মেয়র শাহাদাত হোসেন ২ নভেম্বর বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে বদলি করার জন্য পত্র দিয়েছেন। এদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম তাকে ছুটি শেষে যোগদান করতে না দেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে জানান।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলির জন্য মেয়রের দেওয়া পত্র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদানপত্র নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ পেয়েছেন।

সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুই শীর্ষ ব্যক্তির দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য দেড় মাসের ছুটিতে ছিলেন।

তবে ছুটি শেষে গত ২২ অক্টোবর যোগ দিতে চাইলেও তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তার পরিবর্তে সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে গত শনিবার মেয়র শাহাদাত হোসেন লন্ডন সফরে গেছেন। তার অনুপস্থিতিতে সচিব প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারক করবেন বলে এক বিবৃতিতে জানান মেয়র। তবে মেয়র শাহাদাত হোসেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি। উল্টো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নথি না দেওয়ার জন্য গত ২২ অক্টোবর অফিস আদেশ জারি করেন।

মেয়র স্বাক্ষরিত সে অফিস আদেশে বলা হয়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রশিক্ষণ শেষে ফেরত আসার পর তার যোগদানপত্র গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত সব বিভাগীয় প্রধান সিটি করপোরেশনের সচিবের মাধ্যমে নথি অনুমোদনের জন্য মেয়রের কাছে পাঠাবেন।

এ পরিস্থিতিতে ২৭ অক্টোবর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ ধরনের নোটিশ সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে প্রথম। দুটি প্রতিষ্ঠানের গৃহকর জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন সংস্থার মেয়র শাহাদাত হোসেন। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত এই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে সাত দিনের মধ্যে অপসারণের দাবিতে সিটি করপোরেশন কার্যালয় ঘেরাও করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল–সমর্থিত শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন। এর পর থেকে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আসছেন না প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ