শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ওয়ারেন্টভুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে, একজন আত্মগোপনে: সেনাসদর

ওয়ারেন্টভুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে, একজন আত্মগোপনে: সেনাসদর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে চাকরিতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। এর মধ্যে একজন এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা। আরেক সেনা কর্মকর্তা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেনাসদর।

শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। তিনি বলেন,  ‘অভিযুক্ত সদস্যদের বিষয়ে সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, গুমের মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে পরোয়ানা এখনো তাঁদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। তবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি সেনা সদরের নজরে এলে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায়ই একটি সংযুক্তির আদেশ জারি করা হয়। এ আদেশের মাধ্যমে চাকরিরত ১৫ জন এবং এলপিআর ভোগরত ১ জন—এই মোট ১৬ কর্মকর্তাকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনা হেফাজতে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এলপিআর ভোগরত কর্মকর্তাসহ ১৫ জন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা হেফাজতে আসেন।

তিনি আরও বলেন, তিন মামলায় ২৫ সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এরমধ্যে ৯ জন অবসরে রয়েছেন, একজন এলপিআরে। বাকি ১৫ জন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরে কর্মরত ১৫ জন এবং এলপিআরে থাকা একজন সেনা কষ্ট দিতে আসেন।

মো. হাকিমুজ্জামান জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ সেনা হেফাজতে আসেননি। তাঁর পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ জানিয়ে মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুপস্থিত বা ‘ইলিগ্যাল এবসেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। তিনি যেন অবৈধভাবে দেশত্যাগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য ডিজিএফআই, এনএসআই এবং বিজিবিসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে।  বিভিন্ন বন্দর ও এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী দ্ব্যর্থহীনভাবে বিচারের পক্ষে অবস্থান করে। সেনাবাহিনী ন্যায়বিচারের পক্ষে। “নো কম্প্রোমাইজ উইথ ইনসাফ”। আমরা বিশ্বাস করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন, তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চায় গুম ও খুনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঠিক বিচার হোক। সেনাবাহিনী চায় ইনসাফ। ন্যায়বিচার বা ইনসাফের প্রশ্নে সেনাবাহিনী আপসহীন। তবে অফিসিয়ালি এখনও চার্জশিটের কপি সেনাবাহিনী হাতে পায়নি। নোটিশ দেওয়ার পরও মেজর জেনারেল কবির নামে একজন সেনা কর্মকর্তা সাড়া দেননি। তার বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে চার্জশিটের কপি পেলে আমরা কার কি অপরাধ তা খতিয়ে দেখব।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ