দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে যাতায়াতের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক, পর্যটন বাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করছে। অথচ দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির একাধিক অংশ এখন “দুর্ঘটনাপ্রবণ মৃত্যু ফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
দেশের ব্যস্ততম ও মহাগুরুত্মপূর্ণ এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। ফলশ্রুতিতে, ঘটছে প্রাণহানি, বাড়ছে পঙ্গুত্ব। একেকটি দুর্ঘটনা একেকটি পরিবারকে তছনছ করে দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে এ মহাসড়কে শত শত মানুষ নিহত ও হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠন জানিয়েছে। টানা দুর্ঘটনার কারণে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং মহাসড়কটির দ্রুত চার বা ছয় লেইনে উন্নীত করার জন্য জনদাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। নাগরিক সমাজ, পরিবহন সংগঠন, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলো ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে তুলে ধরেছে।
এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের সন্তান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী তাহসিন মোক্তার নিশান মহাসড়কটির প্রশস্তকরণ ও দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি জনস্বার্থমূলক রীট পিটিশন দায়ের করেন।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিচারপতি জিনাত হক ও মাননীয় বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা’র সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিন্তে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং আগামী ৪ মাসের মধ্যে মহাসড়কটির নিরাপত্তা ও প্রশস্তকরণ সংক্রান্ত কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হাইকোর্টকে জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতে জনগুরুত্মপূর্ণ উক্ত মামলায় রীট আবেদনের পক্ষে শুনানী করেন কক্সবাজারের সন্তান ব্যারিস্টার নওরোজ মোহাম্মদ রাসেল চৌধুরী।
আদালতের এ নির্দেশনায় সাধারণ মানুষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত শুরু হবে, দুর্ঘটনা কমবে এবং যাত্রী ও চালকরা একটি নিরাপদ মহাসড়ক পাবেন।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ মহাসড়কের লেইন বৃদ্ধি শুধু দুর্ঘটনা কমাবে না, বরং কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের পথও সুগম করবে।




