শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েরুমিন ফারহানা হচ্ছেন বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক : হাসনাত আবদুল্লাহ

রুমিন ফারহানা হচ্ছেন বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক : হাসনাত আবদুল্লাহ

বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক হচ্ছেন রুমিন ফারহানা। এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বিএনপির আগ্রাসী ও গুণ্ডা মনোভাব সংস্কার না করলে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহসহ নেতাকর্মীদের মারধরের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আবার গুণ্ডাতন্ত্রের দিকে যেতে চায় না। কিন্তু বিএনপির যে আগ্রাসী ও গুন্ডাতন্ত্রী মনোভাব রয়েছে, তা সংস্কার না করলে বড় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পার্টির অফিস হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে ঢুকতে পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের বাধা দেয়, অপরদিকে বিএনপির নেতাদের ফ্রি এক্সিট দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অপেক্ষা করছে। এসময় তিনি বলেন, বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক হচ্ছেন রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানের কর্মকাণ্ডগুলো বিএনপির হাই-কমান্ডের নির্দেশনাতেই হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম রুমিন ফারহানা। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী, আওয়ামী লীগের ফ্ল্যাটভোগী এবং যারা গুন্ডা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঠান্ডা করে দিতে চায়, যারা একটা প্রেসক্রিপটিভ ইলেকশনের দিকে আবার যেতে চায়, আমরা এই বিএনপির আওয়ামী বিষয়ক সম্পাদকদের বলব- আমরা আপনারা জনগণের পালস বুঝুন। চব্বিশ পরবর্তী জনগণের পালস বুঝুন। নতুবা আবার বাংলাদেশ সংকটের দিকে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বিএনপির এই ফজলু সাহেব (বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান) উনাকে এখনো পর্যন্ত আমরা সম্মান দেখাচ্ছি, কিন্তু উনি যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন এবং রুমিন ফারহানা যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, যে ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, আমরা ধরে নিচ্ছি আমরা ধরে নেবো এগুলো হচ্ছে বিএনপির হাই কমান্ডের ইনস্ট্রাকশন। আজ নির্বাচন কমিশনে যে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিএনপি কী অবস্থান নেয়, সেটির প্রতি আমরা নজর রাখব।

রুমিন ফারহানা এখানে বলছেন, মূলত বিএনপির লোকজন এখানে গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে ঢুকছেন, তারা তাকে ধাক্কা দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তিনি করেছেন এনপিসির বিরুদ্ধে করেননি- এমন বিষয় উত্থাপন করা হলে হাসনাত বলেন, আমরা যদি রুমিন ফারহানার কথাই ধরে নিই, নিজ দলের মধ্যে এখনো পর্যন্ত কমান্ড নিশ্চিত করা হয় না। মানে বিএনপির নেতাকর্মীরাই তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। বিএনপি এত বড় একটা সংগঠন, আমরা চাই সেই সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরে আসুক।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহ বলেন, আজ আমি যখন শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আসি। আমাকে এখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এখানে গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে এরকম এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, আমাকে পেছন থেকে বারবার টেনে-হিঁচড়ে আমাকে গেট থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, আমি শুনানিতে দাঁড়ানোর পর রুমিন ফারহানা তেড়ে গিয়ে আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেন। আমাকে কথা বলতে দেননি। তার যে গুন্ডা-পান্ডা ছিল, তারা আমাকে পায়ের নিচে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করে। তারা টার্গেট করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এখানে মারধর করতে চেয়েছে যেন আমরা আমাদের যুক্তি উপস্থাপন না করি, আমরা যাতে কথা না বলি।

তিনি বলেন, আমি হামলার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। যদি বিচার করতে ব্যর্থ হয়, আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ দাবি করছি। পরে ইসিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ