বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতা মুজিবনগর সরকারে থাকা সবাই মুক্তিযোদ্ধা-এ কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, মুজিবনগর সরকার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার কারণে সেই সরকারের সাথে যুক্ত সবার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি থাকবে। বুধবার (০৪ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অধ্যাদেশে মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুসহ মুজিবনগর সরকারের অন্যদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা বাতিলের বিষয়ে যা বলা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়। মুজিবনগর সরকারে যারা ছিলেন, তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন। যারা সশস্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, যারা পরিচালনা করেছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা। গণমাধ্যমে মিসলিডিং হয়েছে। তবে ওই সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ কূটনীতিকরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা। সহযোগী মানে এটা নয় যে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও জানান, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা ছিল, সেটাই তারা বাস্তবায়ন করেছেন। ২০১৮ ও ২০২২ সালে এটা পরিবর্তন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী দুইয়েরই সম্মান, মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা একই থাকবে। জাতিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ না করলে আমরা স্বাধীন হতাম না। মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে গৌরব আমাদের জাতির ইতিহাসে আর হয়নি।
যাদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তারা সনদ পাওয়ার অধিকার রাখেন তবে পদবী পরিবর্তন হলেও মর্যাদা ছোট হবে না বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
ওই অধ্যাদেশে বিদেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রাখা ব্যক্তি, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাক্তার-নার্স, মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরবর্তীতে গণপরিষদের সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশে বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিক এবং স্বধীন বাংলা ফুটবল দলকেও সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।




