বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েবাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাত উন্নয়নে টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাত উন্নয়নে টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে কাজ করবে। এ টাস্কফোর্স চিপ ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেস্টিং ও অ্যাসেম্বলি কার্যক্রমে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে খাতের জন্য একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করবে।

১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ বিডার কনফারেন্স হলে, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “Semiconductors – A New Frontier for the Bangladesh Economy and Employment,” (সেমিকন্ডাক্টরস – বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত) শীর্ষক স্টেকহোল্ডার মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময়ে সভাপতির বক্ত্যবে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, “ সেমিকন্ডাক্টর খাত উন্নয়নের জন্য  শিল্প সেক্টর, একাডেমিয়া, প্রবাসী এবং সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে, যা  এখাতের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত  কার্যকর সমাধান প্রস্তাব করবে। এ সময়ে তিনি  স্টেকহোল্ডারদের বিডাকে একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান, যাতে সরকারি নীতিমালা ও অগ্রাধিকারগুলো সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সমন্বিত করা যায়।

সভায় গ্রিন কোয়েস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাশুক রহমান মূল উপস্থাপনা প্রদান করেন, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং খাতের উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর কার্যক্রম থেকে বছরে প্রায় ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে, যা মূলত ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন পরিষেবার মাধ্যমে অর্জিত। তবে প্যাকেজিং, অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিংয়ের মতো ডাউনস্ট্রিম কার্যক্রমগুলোতে অবিলম্বে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। আজকের আলোচনার ভিত্তিতে আমরা নীতিমালা উন্নয়ন, প্রচার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হব এবং এগুলো বাস্তবায়নের ফলে সেমিকন্ডাক্টর খাত দেশিয় প্রয়োজন মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাতে পরিনত হবে।“

এ সময়ে সিলিকন ভ্যালি-ভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন পরিষেবা কোম্পানি ULKASEMI-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আপডেট করার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষাদানের পদ্ধতি উন্নত করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে শিক্ষার্থীরা শিখে তাদের ঘরে ফিরছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও জোরালোভাবে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী, যাতে তারা চাকরির ধরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পায়।”

গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির (IP) সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, কিছু নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিকন্ডাক্টর-কেন্দ্রিক কোর্স চালু, শেয়ার্ড ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক প্রচারের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করা। মিটিংয়ে আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (MIST)-এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোঃ নাসিম পারভেজ এবং প্রাইমসিলিকন টেকনোলজি, তাহো কমিউনিকেশনস, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টরস লিমিটেড, হাইসন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (IDF), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ