শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপে ‘রিসিভার’ নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই রিসিভারের কাজ হবে গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. রুহুল আমিনকে রিসিভার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের গতকালের সভায় রিসিভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। এ সভায় বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি অথবা অর্থ উদ্ধার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। একই সভায় ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’–এর কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৫ বছরে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট গ্রুপের অন্য সব ব্যবসার ঋণের বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করাসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান আবেদনকারী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর ওই রিট করেন।
আদালতের আদেশ থেকে জানা যায়, সালমান রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ অব কম্পানিজের অন্য সব ব্যবসা–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কী পরিমাণ ঋণ অপরিশোধিত আছে, ঋণের বর্তমান অবস্থা ও পরিশোধের তথ্য দিতে এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সব সম্পত্তি সংযুক্ত করে সেসব ব্যবস্থাপনায় রিসিভার নিয়োগ বিষয়ে রুল দেওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি আট ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণের পরিমাণ (নন-ফান্ডেডসহ) দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। এসব ব্যাংক বেক্সিমকোর একাধিক বন্ডে আরো ২ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এর বাইরে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বেক্সিমকোর দেনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর আর্থিক খাতে বেপরোয়া ঋণ নিতে শুরু করেন সালমান। করোনার টিকা সরবরাহের কাজ পাওয়ার পর তাঁর ঋণ নেওয়ার গতি আরো বেড়ে যায়। ২০২০ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংকে গ্রুপটির ঋণ ছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এই ব্যাংকে গ্রুপটির দেনা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বেক্সিমকো গ্রুপ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শীর্ষে থাকা গ্রুপগুলোর একটি। এসব কার্যক্রমে যাতে কোনোভাবে ব্যাঘাত না ঘটে, সে দায়িত্ব পালন করবেন রিসিভার। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যেসব টাকা নেওয়া হয়েছে, তা কীভাবে শোধ করা যায়, তা–ও দেখভাল করা হবে।




