ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড( ইউসিবি) দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অভিযোগে তীর বেনজীরের এক সময়ের ব্যবসায়িক পার্টনার শওকত আজিজ রাসেলের বিরুদ্ধে। অনিয়মের ফাঁদ পেতে বিভিন্নভাবে তিনি ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছে।
এবিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে একাধিক অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউসিবি ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আ.লীগ সরকারের পতনের পর নামমাত্র শেয়ারের মালিক শওকত আজিজ রাসেল পুরো ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে নিজের মালিকানায় নিতে পাঁয়তারা করছে। এতে সকল শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউসিবি ব্যাংক যেনো তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করছে।
দুদকের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাসেলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে রাসেলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে উল্লেখ্য রয়েছে, অনিয়ম করে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট হাতিয়ে নেয়।
পরে এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, শওকত আজিজ এবং তার ভাই রুবেল আজিজসহ রাজউকের ছয়জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। শওকত আজিজ পারটেক্স গ্রুপের পরিচালক থাকা অবস্থায় আরো প্লট বরাদ্দে অনিয়মের রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিভিন্ন সময়ে ঋণ অনিয়মের অভিযোগে শওকত আজিজ রাসেলকে তলব করে দুদক। ডাক পেয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়েন রাসেল।
এসময় দুদকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে বাধা দেন। তারা রাসেলকে জানান, বহিরাগত কারো গাড়ি নিয়ে কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। একথা শুনে উত্তেজিত শওকত আজিজ রাসেল দুদকের এক কর্মচারীর শার্টের কলার চেপে ধরেন। আকষ্মিক এমন কাণ্ডে হতবিহ্বল কমিশনের সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত ঘটনার প্রতিবাদ করেন। উত্তেজিত শওকত আজিজ রাসেল দুদকের এই কর্মকর্তাকেও ধাক্কা দেন।
এছাড়াও আজিজ পারিবারিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক এবং আইডিএলসি ব্যবহার করে অর্থ পাচারের সাথে জড়িত রয়েছেন। শওকত আজিজ রাসেলের প্রতিষ্ঠান “অ্যাম্বার”‘ একটি আর্থিকভাবে ব্যর্থ কোম্পানি যার জন্য তিনি এই দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ক্ষতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা করেছেন।
এরই মধ্যে ব্যাংকে এ দুই সহোদরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের কিস্তি বকেয়া হতে শুরু করেছে। করোনাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া ঋণ এ মুহূর্তে খেলাপি হচ্ছে না। তবে আগামী বছর থেকে রাসেল-রুবেলের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারী সব ব্যাংককেই ভুগতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে শওকত আজিজ রাসেলের সঙ্গে ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।




