এ যেন সর্ষের মধ্যে ভূত, অনেকটা পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মতোই রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার মতো। মূল সমন্বয়করা কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবি পূরণ হওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু নব্য সমন্বয়করা বিএনপি জামায়াত শিবিরকে আরও তাণ্ডব করার সুযোগ করে দিতে আন্দোলন জিইয়ে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
সরকার কোটা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ৩০ জুলাই একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করে । সেদিন নব্য কোটা সমন্বয়করা শোক দিবসের বিপরীতে চোখে মুখে লাল রঙের কাপড় বেধে ও ফেসবুক প্রোফাইল লাল করে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। সেই কর্মসূচিতে সামিল হয়েছিল বিএনপি জামায়াত সমর্থিত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। আর এতে একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খানের প্রবাসী ছেলে মিকাঈল সাহাবউদ্দিন কায়ছারকে। তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার লাল করে এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বলছেন, আমাদের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে। আর পক্ষান্তরে আমাদের এক কেন্দ্রীয় নেত্রীর সন্তানের অবস্থান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। তিনি হলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রীর ছেলে মিকাঈল। এ দেখি সর্ষের মধ্যে ভূত!
সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। তিনি এই সংকটে একেবারে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন। তাকে কোনও বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। সংকটে একজন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে তিনি কোনও আহ্বান জানাননি এবং তিনি কোনও কথাবার্তা বলেননি৷ বরং এই সংকটের সময় তার ছেলের এমন আচরণ রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার বাবা আতাউর রহমান খান কায়সার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ ছিলেন।
ওয়াসিকা আয়শা কখনোই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৩১ নং সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক হন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।




