সোমবার, মে ২৭, ২০২৪
প্রচ্ছদটপদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নাটকে প্রতিফলিত হয় বলেই নাটক সমাজের দর্পণ...

দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নাটকে প্রতিফলিত হয় বলেই নাটক সমাজের দর্পণ :স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নাটক সমাজ, রাষ্ট্র ও ইতিহাসের কথা বলে। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নাটকে প্রতিফলিত হয় বলেই নাটক সমাজের দর্পণ। যেকোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে নাটক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত—নাটক, নাট্যকার ও নাট্যকর্মীদের অবদান চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।

শুক্রবার (১২ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে পদাতিক নাট্যসংসদের আয়োজনে ‘সৈয়দ বদরুদ্দিন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব এবং স্মারক সম্মাননা ২০২২-২৩’ শীর্ষক অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করার পর এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. তারিক মাহমুদের সই করা পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পদাতিক নাট্যসংসদের সভাপতি ও উৎসব উদযাপন পর্ষদ ২০২২-২৩-এর আহ্বায়ক সৈয়দ তাসনীন হোসাইন তানুর সভাপতিত্ব এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাট্যজন ম হামিদ এবং নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা নাট্যজন মামুনুর রশীদ।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নাটক জীবন ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। সৈয়দ বদরুদ্দিন হোসাইন ছিলেন ভাষাসৈনিক ও অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও লেখক। তাই আজীবন পদাতিক নাট্যসংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে গেছেন।

পদাতিক আয়োজিত এ নাট্যোৎসবে দেশীয় ও ভারতীয় নাট্যদল আছে। তাই পারস্পরিক সংস্কৃতি বিনিময়ের এই উদ্যোগকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং এই উদ্যোগের সফলতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প ও সাহিত্যের বিকাশে নিরলস কাজ করে চলেছেন। তিনি অসচ্ছল, অসুস্থ শিল্পীদের কল্যাণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রতিবছর বাজেটে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আলাদা বরাদ্দের ব্যবস্থা রেখেছেন।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের স্বপ্রণোদিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাটক সারা বিশ্বে দেশীয় শিল্প-সাহিত্য ছড়িয়ে দিয়ে খ্যাতি অর্জন করবে। শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকার ও বেসরকারি সংগঠনের সহায়তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

এ সময় তিনি ২০২২ সাল অনুযায়ী নাট্যব্যক্তিত্ব দেব প্রসাদ দেবনাথ, রূপসজ্জাশিল্পী বঙ্গজিত দত্তকে (মরণোত্তর) এবং ২০২৩ সাল অনুযায়ী নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুম আজিজ (মরণোত্তর) এবং নাট্যব্যক্তিত্ব তারিক আনাম খানকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানে ১২ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী জাতীয় নাট্যশালা মূল হল, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল এবং স্টুডিও থিয়েটার হলে মোট ২১টি নাটক প্রদর্শিত হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, বদরুদ্দোজা ফরহাদ হোসেন, সুবর্ণা মুস্তাফা, আরমা দত্ত, নাহিদ ইজাহার খান, আদিবা আনজুম মিতা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালাম, স্পিকারের স্বামী এবং পদাতিক নাট্যসংসদের সহসভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, আমন্ত্রিত অতিথিরা, গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ