ব্রেকিং নিউজ

গৌরবের চট্টগ্রাম, হাজার বছরের চট্টগ্রাম

প্রাক ইসলামিক যুগ খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত আরব বণিকগণ করনফোল বা লবঙ্গ সহ অন্যান্য মসলা মিডলইস্ট ও ইউরোপে রপ্তানী করতো। এক আরব বণিকের নদী পথে এক জাহাজ ‘করনফোল’ ডুবে যায়। ১১ শতকে আল ইদ্রিসী কর্ণফুলী তীরবর্তী চট্টগ্রাম নগর ‘কর্ণফুল’ নামে আখ্যায়িত করেন। আরব কবি ইমরুল কায়েসের একটি কাসিদায় দেখা যায়। ‘নাচিম চ্‌্‌ সাবা যায়াত রিবায়াল করনফোল।

Like the coast breeze comes landen,
With fragrance of clover.’
‘পূর্বদেশের লবঙ্গের সুবাসে সুবাসিত সমীরণ।’

ষাট দশকে কিশোরের চোখে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম

১৯৬৭ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি ধলপ্রহরের সময় দোভাষীদের একটি লঞ্চ পুরানো চাক্তাই ঘাটে কর্ণফুলি নদীতে নোঙর করে। সেই লঞ্চ থেকে সাম্পানে করে পুরানো চাক্তাই ঘাটে অবতরণ করে এক কিশোর। সে পুরানো চাক্তাইর পথ ধরে বড় গ্রোসারি হাউস, তেল, চাল, ইত্যাদির ফ্যাক্টরিসমূহ পাশ কাটিয়ে এগোতে থাকে। পণ্য পরিবহনকারী গরুর গাড়ি সমূহ, সিআই সীটের পাইকারী দোকান ফেলে খাতুনগঞ্জের দিকে এলে দেখতে পাওয়া যায় আদম লিমিটেড, দাদা লিমিটেড, এ ধরনের অবাঙালিদের অফিস ও আড়ত ফেলে শুরু হয় পিতাম্বর সাহার দোকানসহ আর একটি গঞ্জ– বিটলিগঞ্জ, কোরবানীগঞ্জ। ডানে পড়ে থাকে জমজমাট বকশীর হাট। আর একটু সামনে গেলেই বস্ত্র বিপণী টেরী বাজার। বামে প্রেস প্রিন্টিং সেক্টরের কাঁটা পাহাড় লেইন এবং বিড়ি–সিগারেটের দেশ খ্যাত আজিজ কোম্পানির অফিস।

হাজার বছরের চট্টগ্রাম

সূত্রমতে, সপ্তম শতাব্দীতে কর্ণফুলি নদীর তীরে চট্টগ্রামের আদিরূপ হরিকেল রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়। ইরাইথ্রিয়িন সি (Erytrean Sea ) তে চট্টগ্রাম সম্পর্কে দারুণ একটা বর্ণনা আছে। ব্যাবিলিয়ন সাম্রাজ্যের ইয়েমিনি এবং আরব বণিকরা গ্রীস মেসেডোনিয়াসহ পূর্বের জাভা, সুমাত্রা, চীন এবং এই উপমহাদেশের সুরাট, কোচিন, তাম্রলিপি ও চট্টগ্রাম বন্দরর সাথে বাণিজ্য করতো। বিখ্যাত মিশরীয় ইতিহাস ও জ্যোর্তিবিদ টলেমি চট্টগ্রামকে নিকট প্রাচ্য–প্রতীচ্যের সর্বাপেক্ষা সুন্দরতম শহর হিসেবে বর্ণনা করেন। মালয়ী ইতিহাস থেকে জানা যায় যে খৃষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী থেকে মালয়ের সাথে চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য ছিল। ফাহিয়েন, হিউয়েন সান, ইবনে বতুতা প্রভৃতি বিখ্যাত পরিব্রাজকদের মতে চট্টগ্রাম পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার লীলাভূমি।

পরবর্তীতে আরবীয় মুসলিম বণিকেরা চট্টগ্রামকে তাদের মুখ্য বন্দর বিবেচনা করত, নবম শতাব্দীর দিকে এটার নাম দেন সামুন্দা। ১৫২৮ সালে পুর্তগীজ নাবিকরা সঠিকভাবেই এটাকে পোর্তে গ্রানডে (porte Grande ) রূপে চিহ্নিত করে।

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তির উত্থানের প্রারম্ভ থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর ভৌগোলিকভাবেই অত্র অঞ্চলের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে কলিকাতা বন্দরকেই বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসকরা চট্টগ্রামের গুরুত্ব ও অপার সম্ভাবনার কথা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। যার ফলে কলিকাতা প্রশাসনিক কার্যক্রমের আদর্শ স্থান রূপে বিবেচিত হলেও উপমহাদেশের সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিগণিত হয় চট্টগ্রাম। প্রকৃত অর্থে, যখন থেকে আসাম–বেঙ্গল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয়, তখন থেকে চট্টগ্রামের নব উত্থান সূচিত হয়।

পাকিস্তান পর্ব

১৯৪৭ সালের বন্দর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানতম এবং ব্যস্ততম নগরে পরিণত হয়। পঞ্চাশের দশকে বন্দর ও রেল চট্টগ্রামে তথা তৎকালীন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে ব্যবসা বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়নের জন্য অনেক স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামে বৃহৎ ও মাঝারি আকারের কিছু ষ্টীল মিলস, অয়েল রিফাইনারী, বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কারখানা এবং পেপার মিল প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু খ্যাতনামা বহুজাতিক কোম্পানী তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় চট্টগ্রামে অনেকগুলো বড় আকারের জুট মিলস স্থাপিত হয় এবং কিছু সংখ্যক ব্যাংক ও বীমা কোম্পানীর হেড অফিসও এখানে স্থানান্তরিত হয়। প্রধান আমদানী–রপ্তানী নিয়ন্ত্রক এবং জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়ও চট্টগ্রামে ছিল। বার্মা ও ভারতগামী ফ্লাইটও চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে চলাচল করতো।

৭১ এর পরে নবযাত্রা

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদ্বয় ঘটে এবং চট্টগ্রামের গুরুত্ব হয়ে উঠে আরো ব্যাপক ও অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাত্তোর কাল থেকেই দেশের বৃহত্তম শিল্প নগরী ও প্রধান সামুদ্রিক বন্দর খ্যাত চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ প্রসংগে কিছু উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে যে, দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে চট্টগ্রামের ভূমিকা কত ব্যাপক। দেশের তিন চতুর্থাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য চট্টগ্রামের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দেশের ৩৫০০ এরও অধিক তৈরী পোশাক শিল্পের মাধ্যমে আহরিত বৈদেশিক মুদ্রার ৬০ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম ভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের ফলে সত্তর দশকের শেষার্ধে এবং আশির দশকে দেশে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পোদ্যোক্তার আবির্ভাব ঘটে, যারা মাঝারি আকারের অনেক রপ্তানিমুখী শিল্পোদ্যোগ গ্রহণ করে। দেশে রপ্তানীমুখী শিল্পোদ্যোগের নব জাগরণের এই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে স্থাপিত হয় দেশের প্রথম রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল। আশির দশকের শেষ ভাগে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা এবং নব্বই দশকের শুরুতে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাফকো প্রজেক্ট স্থাপনের ফলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় চট্টগ্রামের দিকে। চট্টগ্রামের পরিচিতি ঘটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান উন্নয়ন অঞ্চল হিসেবে। সাঙ্‌গুতে বিশাল সামুদ্রিক গ্যাস ফিল্ডের আবিষ্কার, বাংলাদেশ বিশেষ করে চট্টগ্রামকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করেছে অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে।

আশির দশকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা “অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার” শীর্ষক একটি থিম স্লোগান উচ্চারণ করেছিলেন। এর সার কথা ছিল দেশের যে এলাকায় যে সম্পদ ও সম্ভাবনা রয়েছে তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার। অর্থাৎ optimum utilization of the internal resources । এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের উন্নয়নের আলোচনা বার বার প্রাধান্য পাচ্ছে। এটি আঞ্চলিকতা নয় আন্তরিকতা। অবশ্য থাইল্যান্ড মডেলে বর্তমান সরকার one district one product বাস্তবায়ন করার একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রিজিওনাল বিজনেস হাব

সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বারখ্যাত এ বন্দরকে কেন্দ্র করেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রিজিওনাল বিজনেস হাব হিসেবে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় ব্যবসা ও বিনিয়োগের গন্তব্য স্থান হিসেবে বিকশিত হয়েছে। চট্টগ্রামের কৌশলগত অবস্থান ও অন্যান্য অর্থনৈতিক পরিপূরক সুযোগ সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থ–সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ও ব্যবসায়ীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সরকারও এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। চট্টগ্রামের সাথে ভারতের NEI এর সাথে বাণিজ্য নিয়ে Enhancing the Trade and Investment Between Bangladesh and Northeast India শীর্ষক একটি স্টাডি রিপোর্ট প্রণয়ন করে। এর ফসল হিসেবে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে সিমেন্টসহ বেশকিছু পণ্য ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে রপ্তানী শুরু হয়। উল্লেখ্য, ASEANF এবং SAARC এর সংযোগকারী হিসেবে অচিরেই এ অঞ্চল Geopolities এবং ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ এম্‌প্লয়ার্স ফেডারেশনের বাংলাদেশ–মায়ানমার–থাইল্যান্ডকে নিয়ে একটি “কোয়াড্রোপেঙ্গেল” কনসেপ্ট দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের খ্যাতনামা চিন্তক তত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান চট্টগ্রাম সম্পর্কে “গ্লোবাল পোর্ট, গ্লোবাল” সিটির ধারণা দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে শুধু মহানগরের উন্নয়ন নয়

একটা মাষ্টার প্ল্যান তৈরী এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে শাহ আমানত সেতুর অপর পাড়ে যেখানে KAFCO, CUFL, Korean সিমেন্ট, সিআই শীটসহ অনেক ভারী শিল্প পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গেছে। কর্ণফুলঅর দক্ষিণ পাড়ে স্টিল, সুতা, ঔষধ, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সরকারি– বেসরকারি এক্সপোর্ট জোট গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ২০টি থানার ৭টি রয়েছে কর্ণফুলির দক্ষিণ পাড়ে। সামগ্রিকভাবে উক্ত এলাকা সমূহে Urbanization চূড়ান্ত পর্যায়ে। বাংলাদেশে ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বৃহত্তর চট্টগ্রামে অবস্থান করে। যা কর্ণফুলীর সাথে সংযুক্ত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট বান্দরবানে ৪.৪৮০ স্কোয়ার কিলোমিটার reserved forest রয়েছে।

কর্ণফুলী তীরের বাণিজ্য

সৈয়দ আহমদুল হক এর মতে প্রাক ইসলামিক যুগ থেকে আগরকাঠ, চন্দনকাঠ, মসল্লা নৌপথে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সিলেট, চট্টগ্রাম জেলায় বাণিজ্য হতো। ১৯৩৮ সালে হালিশহরে প্রথম বস্তু কল স্থাপিত হয়। এরপর ইস্পাহানী, একে খান সহ ১১টি বস্তুকল স্থাপিত হয়।

কর্ণফুলী ও তাঁর উপশাখা নদী তীরবর্তী স্থানে লবণ ও উৎপাদিত হয়। কর্ণফুলী তীরবর্তী বাংলা বাজার লবণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। অতীতে প্রতি বছর ২০০ জাহাজ লবণ চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানী হতো (ভেনিসের পরিব্রাজক ফ্রেডিসি)। লবণ ব্যবসায়ীদের মলঙ্গী বলা হতো। পতেঙ্গা, পার্কি সহ ৩৭টি স্থানে লবণ তৈরী হতো। নীল কর এর মতো সল্টটেক্স একা শোষণ করা প্রচলিত ছিল।

একবিংশের শিপ বিল্ডিংয়ের কথা আমরা পরে বলেছি “জাহাজ” আরবী শব্দ। চট্টগ্রাম শহরে শুলকবহরের ডক ইয়ার্ড ছিল। আবদুল হক চৌধুরী বর্ণিত “ডয়েচল্যান্ড” এর ছবি জার্মানী জাদুঘরে আছে। তিনি “আমিনা খাতুন” সহ ১৩ জন জাহাজ প্রস্তুতকারকের নাম বলেছেন। কর্ণফুলী অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী, লবণ, মাছ, চাল, ধান পরিবহন করা হতো।

চট্টগ্রামে চাক্তাই এলাকায় চামড়ার গুদাম বিখ্যাত ছিল। চট্টগ্রামে ১৬টির মতো ট্যানারি ছিলো। চট্টগ্রামে ২০ লক্ষ টন মাছ ধরা হয়। ২২টির মতো ফ্রোজেন ফুড ফ্যাক্টরি রয়েছে। অন্যদিকে গেল শতাব্দীতে ১২ জন শুটকি ব্যবসায়ী ছিল। বার্ষিক ২ লক্ষ মন শুটকি বাজারজাত করা হতো।

কর্ণফুলী তীরে চন্দ্রঘোনায় এশিয়ার বৃহত্তর কাগজের কল আছে। এ নদীর মোহনায় বাংলাদেশের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর (চট্টগ্রাম) অবস্থিত। কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে এ নদীতে ‘কর্ণফুলী বহুমুখী পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলের ১৯০৬ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী থেকে বিদ্যুুৎ উৎপাদনের জরিপ ও চেষ্টা শুরু হয়। পরে ১৯৫১ সালে আমেরিকায় সহযোগিতায় পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং ১৯৬২ সালের মার্চে এর কাজ শেষ হয়। এই পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নৌ–চলাচল, মৎস্য চাষ অন্তর্ভুক্ত হয়। কাপ্তাই বাঁধের উচ্চতা ১৫৩ ফুট, দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২০০ ফুট। বাঁধের তলদেশ ৮০০ ফুট ও উপরে ২৫ ফুট প্রশস্ত। গেটের সংখ্যা ১৬টি বাঁধের ফলে ২৫৬ বর্গমাইল আয়তনে হ্রদ বা জলাধার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী তীরবর্তী উর্বরভূমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও কর্ণফুলীর অর্থনৈতিক বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। এই নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। বনজ সম্পদ যেমন বাঁশ, বেত, কাঠ এসব পরিবহনেও এ নদীর ব্যাপক অবদান রয়েছে। এ অঞ্চলের পার্বত্য শ্রেণিকে আর্দ্র রাখতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে কর্ণফুলী। যার ফলে এ পাহাড়শ্রেণি তুলনামূলকভাবে রুক্ষ ও শুষ্ক কম। এখানকার প্রাণিবৈচিত্র্য দীর্ঘজীবী হওয়ার প্রধানতম কারণ হচ্ছে পাহাড়িয়া এই নদী। পানি সহজলভ্য হওয়ার নানান প্রজাতির ব্যাপক সমাবেশ ঘটেছে এখানে। (বাংলাদেশের নদী, মোকারম হোসেন, ২০০৩) (চলবে)

লেখক : অভীক ওসমান, সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, অতিথি শিক্ষক, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

About bdsomoy