ব্রেকিং নিউজ

স্পেনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন

মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে দূতাবাসের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন কর্মসূচীর মধ্যে অন্যতম ছিল পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত, বাণী পাঠ, বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং আলোচনা সভা ও মোনাজাত।

পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে জন্মদিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্পেন, এন্ডোরা ও ইক্যুয়েটরিয়াল গিনিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর জীবন ও কর্মের উপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন এবং তাঁর অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী ফজিলাতুন নেছা মুজিব আমৃত্যু স্বামীর পাশে থেকে একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। বাঙালির প্রতিটি মুক্তিসংগ্রামে তিনি বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে কারাবন্দী স্বামীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গভীর অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মাঝেও তিনি অসীম ধৈর্য, সাহস ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমৃত্যু পাশে থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এমনকি, যখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে বঙ্গবন্ধু শাহাদত বরণ করেন তখন ঘাতকদল বঙ্গমাতাকে তাদের সাথে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি নির্ভীকচিত্তে ও সাহসিকতার সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দৃপ্তকন্ঠে উত্তর দেন যে, তিনি কোথাও যাবেন না, তিনি তৎক্ষনাৎ মৃত্যুবরণকেই পছন্দ করবেন। তাই, এবারের প্রতিপাদ্য “মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা, অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা” অত্যন্ত যথার্থ বলে প্রতীয়মান হয়।

আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব সহ ১৫ আগস্টে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও ব্যক্তিবর্গ এবং জাতীয় চার নেতার রূহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার শুভ জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত কেক কাটেন। সভার শেষাংশে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে আপ্যায়ন করা হয়।

About bdsomoy