ব্রেকিং নিউজ

বিটিআরসি’র বিলিয়ন ডলারের তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত, সরকারের রাজস্ব আয় ১০ হাজার ৬৪৫.৭০ কোটি টাকা

দেশের সকল মোবাইল অপারেটর প্রতিনিধিগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে ৩১ মার্চ ২০২২ তারিখ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক ২.৩ গিগাহার্জ ব্যান্ডের বরাদ্দযোগ্য ১০০ মেগাহার্জ (১০ মেগাহার্জের ১০টি ব্লক) এবং ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের বরাদ্দযোগ্য ১২০ মেগাহার্জ (১০ মেগাহার্জের ১২টি ব্লক) এর তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার প্রকৌঃ মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে পরিচালিত এ গুরুত্বপূর্ণ নিলাম কার্যক্রম এর ১ম পর্ব পরিচালনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নাসিম পারভেজ এবং ২য় পর্ব পরিচালনা করেন স্পেক্ট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান জুয়েল।

অনুষ্ঠিত চুড়ান্ত নিলাম মূল্য ১৫ বছরের জন্য ৬.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়েছে। এতে গ্রামীণফোন লিমিটেড ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ৬০.০০ মেগাহার্জ, রবি আজিয়াটা লিমিটেড ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ৬০.০০ মেগাহার্জ, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেড ২.৩ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ৪০.০০ মেগাহার্জ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড ২.৩ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ৩০.০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ বরাদ্দ গ্রহণ করেছে। ১৫ বছরের জন্য যার মূল্য ১.২৩৫ (ভ্যাট ব্যতীত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার , যা বাংলাদেশি টাকায় ১০ হাজার ৬৪৫.৭০ কোটি টাকা।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী অপারেটরভিত্তিক গ্রামীণফোন লিমিটেডের মোট একসেস তরঙ্গ ৪৭.৪০ মেগাহার্জ হতে ১০৭.৪০ মেগাহার্জে উন্নীত হবে। রবি আজিয়াটা লিমিটেড এর মোট একসেস তরঙ্গ ৪৪.০০ মেগাহার্জ হতে ১০৪.০০ মেগাহার্জে উন্নীত হবে। বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেড এর মোট একসেস তরঙ্গ ৪০.০০ মেগাহার্জ হতে ৮০.০০ মেগাহার্জে উন্নীত হবে। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এর মোট একসেস তরঙ্গ ২৫.২০ মেগাহার্জ হতে ৫৫.২০ মেগাহার্জে উন্নীত হবে।

আয়োজিত তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তফা জব্বার বলেন, স্বাধীনতার মাস জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাস এবং এই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কানেক্টটিভিটি মানবজীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা করোনাকালে আমরা উপলদ্ধি করেছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাংলাদেশ যাতে তথ্য প্রযুক্তিতে পিছিয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

গ্রাহক কর্তৃক মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতদিন অপারেটরদের নিকট পর্যাপ্ত তরঙ্গের ঘাটতি ছিল, আজকের নিলামে বিক্রি হওয়া ১৯০ মেগাহার্জ তরঙ্গ যুক্ত হলে তা টেলিযোগাযোগ খাতে আমূল পরিবর্তন হবে। নিলামকৃত তরঙ্গ ফোরজি ও ফাইভজি উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে বলেও জানান তিনি। আজকের ১২০ মেগাহার্জ এর মধ্যে অবিক্রিত যে ৩০ মেগাহার্জ তরঙ্গ রয়েছে , তাই কোনো অপারেটর ক্রয় করতে আগ্রহী হলে সেই সুযোগ দেয়ার জন্য বিটিআরসির প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী। নিলামের মাধ্যমে আহরিত রাজস্ব জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রত্যেক অঞ্চলে দ্রুত গতির ফোরজি সেবার ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি ফাইভজি ভবিষ্যতে যাতে কনুজ্যুমার প্রোডাক্ট হয় সে লক্ষ্যেও কাজ করছি।

নিলামে সব পক্ষ উইন উইন সিচুয়েশনে রয়েছে জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব জনাব মো: খলিলুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র এখন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। নিরবিচ্ছন্ন নেটওয়ার্ক বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দিতে অপারেটরদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

নিলামে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিটিআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম নিয়ামক তরঙ নিলাম। এই নিলাম কল ড্রপ ও ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালান করবে।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জনাব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে আজকের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাহক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন তরঙ্গের মাধ্যমে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে অপারেটরদের প্রতি আহবান জানান তিনি। নিলাম সফল করার জন্য নিলাম কমিটি, গণমাধ্যম ও অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান।

এবারের নিলামে ২.৩ গিগাহার্জ ও ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডদ্বয়ের তরঙ্গ মোবাইল অপারেটরদের অনুকূলে বরাদ্দকরণের নিমিত্ত ১৫ বছরের জন্য প্রতি মেগাহার্জ তরঙ্গের ভিত্তি মূল্য (Base Price) ৬.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরকারের পুর্বানুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে নির্ধারন করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে, অপারেটরকে নতুন প্রাপ্ত তরঙ্গের মোট অধিগ্রহণ মূল্যের ১০ শতাংশ ৩০ জুন ২০২২ এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে, তবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে ১ জুলাই ২০২২ হতে ১ জানুয়ারি ২০২৩ এর মধ্যে মূল তরঙ্গ বরাদ্দ পত্র কমিশন হতে গ্রহণ করতে হবে মর্মে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তরঙ্গ বরাদ্দপত্র জারির তারিখ থেকে প্রতি এক বছর অন্তর বাৎসরিক ১০% হারে বাকি ৯০% চার্জ ৯ (নয়) টি কিস্তিতে ৯ (নয়) বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তরঙ্গের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ৪জি লাইসেন্স মেয়াদ তথা ১৮ ফেরুয়ারি ২০৩৩ তারিখ পর্যন্ত থাকবে। এক্ষেত্রে সমন্বিত মোবাইল লাইসেন্স (Unification of 2G, 3G. 4G, 5G and beyond) জারীর পর, ১৮ ফেরুয়ারি ২০৩৩ তারিখের মধ্যে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ সাপেক্ষে উক্ত তরঙ্গের মেয়াদ ১৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, তরঙ্গ বরাদ্দে নিলাম পদ্ধতি অবলম্বনের নিমিত্ত বর্ণিত নির্দেশিকাটি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপারেটরগণের মধ্যে তরঙ্গ বরাদ্দের সামঞ্জস্যতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিটিআরসি আশা করে সরকারের উল্লেখযোগ্য আয়ের পাশাপাশি বিদ্যমান মোবাইল ফোরজি সেবা সম্প্রসারণ ও এর মানোন্নয়ন এবং বাংলাদেশে মোবাইল ৫জি সেবা বাস্তবায়নে আজকের বরাদ্দকৃত তরঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

About bdsomoy