ব্রেকিং নিউজ

সুফীজম ভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হাকানের শান্তিযাত্রা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

২০ অক্টোবর ২০২০ তারিখে আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসে সুফীজম ভিত্তিক নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “হাকানের শান্তিযাত্রা” প্রদর্শীত হয়। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দূতাবাসের নবনির্মিত বিজয় একাত্তর মিলনায়তনে উক্ত অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশী ও তুরস্কে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীগণ, দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ এবং তুরস্কের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনুষ্ঠানে ইস্তাম্বুলের বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল এবং দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মস্য়ূদ মান্নান-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক, সাহিত্যিক এবং বিশিষ্ট প্রযোজক ও পরিচালক শাহ্রিয়ার কবির ।

দূতাবাসের উপপ্রধান জনাব মোঃ রইস হাসান সারোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলের মাঝে তুরস্কে বাংলাদেশের নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত-এর পরিচয় উপস্থাপন এবং কূটনীতিক হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য পেশাদারিত্বের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সবার সামনে তুলে ধরেন। এরপর, সঞ্চালক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাহ্রিয়ার কবির-কে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানালে- তিনি সুফীজম ও তাঁর উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র “হাকানের শান্তিযাত্রা” সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সুফীজমের বিস্তার ও বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফীজম ও সুফী সাধকদের অবদানের কথা প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন উদাহরণসহ তুলে ধরেন। এছাড়া, তিনি তুরস্কের প্রখ্যাত ইসলামিক চিন্তাবিদ ও সুফী মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সুফী সাধকগণ বিশেষতঃ বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুফী সিলেটের হযরত শাহ্জালাল এবং ফকির লালন শাহ্্-এর কথা সবার সামনে তুলে ধরেন।

অতপরঃ অনুষ্ঠানের সভাপতি রাষ্ট্রদূত মস্য়ূদ মান্নান অতিথিদেরকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিজের ও একজন সফল কূটনীতিক হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি দূতাবাসে যোগদানের প্রাক্কালে এধরনের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রধান আয়োজক, কলাকুশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ-তুরস্কের     দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে আরো সুসংহত ও জোরদার করতে ভবিষ্যতে অত্র দূতাবাসে এধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন অব্যাহত রাখবেন মর্মে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সুফীজম ভিত্তিক “হাকানের শান্তিযাত্রা” শীর্ষক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ ও তা দূতাবাসে প্রদর্শনীর জন্য  শাহ্রিয়ার কবিরের উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করেন এবং এধরনের বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য উপস্থিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন- বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াই ইসলামের বিস্তার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফীজমের যে ভূমিকা তা অনিস্বীকার্য এবং তা অস্বীাকার করার কোন সুযোগ নাই। অতপরঃ শাহ্রিয়ার কবির-এর প্রযোজনা ও পরিচালনায় তুরস্ক-বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার সূফী সাধকদের জীবন ও কর্ম-এর উপর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “হাকানের শান্তিযাত্রা” প্রদর্শীত হয়। এরপরঃ শাহ্রিয়ার কবির প্রবাসী ও তূর্কীদের সঙ্গে সুফী ও সুফীজমের বিস্তার ও বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফীজমের ভূমিকা বিষয়ক মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

About bdsomoy