ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জমজমাট পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

শীতের সকালে চুলোর ধারে বসে কিংবা রোদ পোহাতে পোহাতে গরম পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে। আগে গ্রাম-বাংলার আনাচে কানাচে প্রতিটি শীতের সকালে উৎসবের আমেজ বিরাজ করতো। কিন্তু কালক্রমে কেমন যেন আস্তে আস্তে সেই সংস্কৃতি আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আর আগের মতো খেজুর গাছ কিংবা খেজুরের রসের প্রাচুর্যও নেই। তবে প্রেস ক্লাবের এস রহমান হল ও আলহাজ্ব সুলতান আহম্মেদ হল জুড়ে বসেছিল পিঠার উৎসব। হাঁস পিঠা, ফুলঝুরি, সুজির রসমঞ্জুরী, ডিমের ঝুড়ি, হাতঝারা পিঠা, বিবিখানা, গোলাপ পিঠা, পাক্কন পিঠা, ছাইন্না পিঠা, চিংড়ি পুলি, কিমা ভাপা, সব্জিরোল, চিরুনী, ডালের নকশি, হাতের বানানো গুরা পিঠা, বিন্নি চাউলের কলা পাতার পিঠা, দুধ পুলি, নারকেল বরফি বাহার, আলুর রস ডোবা মালাই গজা, সাগুদানা, নুনচিয়া, ভেজিটেবল কাটলেট, পুডিং, অন্থন, গাজর পাকন, দুধ চিতই, ত্রিভূজা চিকেন, রসে ভরা প্যাচ পিঠা, মুগ পাকন, পান্ডোয়া, ফুলঝুরি, মাল পোয়া, সুজির রসমঞ্জুরী, ডিমের ঝুড়ি, হাতঝারা পিঠা, বিবিখানা, গোলাপ পিঠা, পাক্কন পিঠা, বকুলফুল, বকুলফুলের মতো বাহারি পিঠার সমাহার ছিল হলজুড়ে। থরে থরে সাজানো পিঠা-পুলির ম-ম গন্ধ।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব-ওয়েল ফুড পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন ওয়েল গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আজীবন দাতা সদস্য সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ঐতিহ্যের দেশ বাংলাদেশ। সেদিক বিবেচনায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে। পিঠা উৎসবসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে প্রেস ক্লাব বাঙালির ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে।
পিঠা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস। এ সময় প্রধান অতিথি সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রæয়ারির প্রথম দিনে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে। এই মাসেই আন্দোলন এবং রক্তের বিনিময়ে আমাদের মাতৃভাষাকে ছিনিয়ে এনেছি। আর ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আবহমানকালের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারলে তাহলে আমরা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো।
প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস বলেন, পিঠা উৎসব আয়োজনের অনন্য কারিগর হচ্ছেন আমাদের সদস্যদের সহধর্মিনীরা। তাাঁরা রাত জেগে অনেক কষ্ট করে সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের পিঠা তৈরি করেছেন। একইসাথে ভালোভাবে পিঠা উৎসব আয়োজনে সহায়তা দেয়ায় ওয়েল ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।
যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উৎসবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)র নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য মো. শামসুল ইসলাম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, অর্থ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পিঠা উৎসব কমিটির আহবায়ক রূপম চক্রবর্তী, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী এবং কার্যকরী সদস্য ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ আলী।
পিঠা উৎসবে বিচারক ছিলেন সাবেক সেরা রাঁধুনি পুরস্কারপ্রাপ্ত রন্ধনশিল্পী সাভিনা ইকরাম সিরাজী এবং বনজুর রেস্টুরেন্টের এক্সিকিউটিভ প্যাস্টি সেফ মোহাম্মদ জুবুল। পিঠা উৎসবে বিচারকদের বিচারে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন বিবি জয়নাব, দ্বিতীয় স্থান স্বপ্না ইয়াসমিন ও নুর জাহান বেগম তৃতীয় হয়েছেন।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরণ করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস। সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী অজয় চক্রবর্তী, আহসান হাবিবুল আলম এবং মুমু।
পিঠা উৎসবে কামরুন নাহার রিতা, স্বপ্না বড়–য়া, রাজিয়া সুলতানা নীলু, সীমা আলম, নাছিমা বেগম, রাজিয়া বেগম চৌধুরী, বিউটি সুলতানা খানম, ফারজানা আক্তার, আরজু নয়ন, ফাতেমা ফেরদৌস, রতœা গোস্বামী, দীনা রায়হান, ছেমনা আক্তার, ইসরাত জাহান, বন্দনা চৌধুরী প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

About bdsomoy