ব্রেকিং নিউজ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-এ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো

মঙ্গলবার সারা বাংলাদেশের ৫৯,৬৩১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭৫ লক্ষ শিক্ষার্থী সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসটি উদযাপন করলো। মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা । এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি আয়োজন করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া উভয় প্রবনতা কমাতে পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া একটি ব্যয়-স্বাশ্রয়ী উদ্যোগ। কিছু নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে খাবার গ্রহণের পূর্বে বা খাবার প্রস্তুতের পূর্বে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে দুই হাত ধোয়ার মাধ্যমে ডায়রিয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ও তীব্র শ^াসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রায় ২৩ শতাংশ কমানো সম্ভব।

সুস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসাধারনের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা ও প্রচারের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে একযোগে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।  এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘সকলের হাত পরিচ্ছন্ন থাক’এটি টেকসই উন্নয়ন কাউকে বাদ দিয়ে নয় তা অনুসরন করে। হাত ধোয়ার সুবিধায় অসমতা ও কার্যকর প্রচার প্রোগ্রামের অভাবে আমরা বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকিতে পড়ছি যা আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রভাতিব করতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; স্বপন ভট্টাচার্য এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, হেলালুদ্দীন আহমদ, সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ; টমু হুজুমি, ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি; মোঃ জহিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ; মোঃ আব্দুল মান্নান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মোঃ সাইফুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) সেক্টরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ অগ্রগতি সাধন করেছে। এজন্য দরকার সবার জন্য হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত সুবিধা অর্থাৎ   সাবান ও পানি, যাতে করে এ পর্যন্ত যেসব অর্জন সম্ভব হয়েছে তা ধরে রাখা এবং হাত ধোয়ার অভ্যাসের বর্তমান অবস্থার আরো উন্নতি সাধন করা। এর মধ্যে রয়েছে ভৌগলিক অবস্থান, আর্থসামাজিক অবস্থা, পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী যেমন বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্টি যেমন আদিবাসী এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্টি এবং স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবারের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র অন্তভর্’ক্ত।

এটি অর্জনের জন্য, বিশেষ সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসটি প্রতিষ্টা ও সংযুক্ত করার জন্য প্রাসঙ্গিকভাবে যথাযথ আচরন কেন্দ্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আমাদের সর্বোত্তম অনুশীলনগুলি ব্যবহার করা প্রয়োজন, যেমন সক্ষম প্রযুক্তি অন্তর্ভূক্ত করা, সামাজিক নিয়মাবলি এবং অভ্যাস বিজ্ঞানের নতুন আবেদনগুলিকে অন্তভর্’ক্ত করা, যেমন অগ্রাধিকারের দিকে ধাক্কা, পর্যবেক্ষন এবং অর্জনের উপর প্রতিবেদন তৈরী করা এবং সংশ্লিষ্ট এসডিজি অর্জনের জন্য নীতি, কৌশল এবং কর্মসূচিগুলিতে হাত ধোয়ার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা।

Please follow and like us:

About bdsomoy