ব্রেকিং নিউজ

সিটি ব্যাংকের সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলা

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আব্দুল ওয়াদুদ এবং বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মামলাকারী একই ব্যাংকের সাবেক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে এবার উল্টো ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি (নম্বর-১৮) দায়ের করেন ব্যাংকটির ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কোর্ট অপারেশন একেএম আইয়ুব উল্লাহ। মামলায় চাঁদা দাবি ছাড়াও দিনের পর দিন ব্যাংকের গাড়ির অপব্যবহার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচারণ, চাকরিবিধি লঙ্ঘন, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স ম কাইয়ূম জানিয়েছেন, দুটি অভিযোগই মামলা হিসেবে রেকর্ড করে ইতোমধ্যে এগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে, বলেন তিনি।

গত রবিবার একই থানায় মাসরুর আরেফিন, আব্দুল ওয়াদুদ ও কাফি খানকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪০৬/৫০৬ ধারায় মামলা করেন মনিরা সুলতানা পপি। মামলার অভিযোগে বাদির শ্লীলতাহানি ও শ্লীলতাহানিতে ইন্ধন দেওয়া এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। এজাহারে পপি আরও উল্লেখ করেন, লালসা পূরণ করতে না পারায় তিন আসামি তার ১৭ বছরের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেন।

অন্যদিকে পপির অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে মাসরুর আরেফিন বলেন, তিনি (পপি) নিজেই তো নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত। এসবের সুষ্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। কর্মরত থাকাকালে কাউকে কিছু না বলে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকা, অফিসকে অবগত না করে ২৫১ দিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যাংকের গাড়ির অপব্যবহার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচারণ, চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ফলে সব নিয়ম মেনে যুক্তিসঙ্গত কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু তিনি মামলার মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেল করতে চাইছেন।

শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা কয়েক বছর আগের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এত দিন কেন বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কাউকে জানাননি, এ-ও কি সম্ভব? এতদিন পর মামলা করার বিষয়ে আমার বদ্ধমূল ধারণা, অর্থের জন্যই এ কাজটি করেছেন মনিরা সুলতানা পপি। কারণ যেদিন তিনি মামলা করেন, সেদিনই মামলা তুলে নেবেন বলে কর্মকর্তাদের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। যার ভয়েস রেকর্ড, সাক্ষ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। তা ছাড়া হোম লোন বাবদ মনিরা সুলতানা পপির কাছে ৮০ লাখ টাকা ব্যাংক পাবে। এ টাকা না দেওয়ার জন্য হয়তো তিনি মামলার নামে নাটক সাজিয়েছেন। ওই নারীর মামলায় গত সোমবার আমরা উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছি। এখন আদালতই বিচার করবেন, কে দোষী, আর কে নির্দোষ।

সিটি ব্যাংকের এমডির অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার একাধিকবার সিটি ব্যাংকের সাবেক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া দেননি তিনি।

Please follow and like us:

About bdsomoy