ব্রেকিং নিউজ

জাতির পিতার আদর্শকে আমাদের বুকে ধারণ করতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে; জাতির পিতার আদর্শকে আমাদের বুকে ধারণ করতে হবে। জাতির পিতার স্বপ্ন – ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমাদের সবার একসাথে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করতে যেয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা বলেন।DSC_0075 - Copy

বাংলাদেশ একটি দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি তাঁর সারা জীবন আমাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবার সময় এ দেশ সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত ছিল। এমনকি ঐ সময় বিদেশী অনেকেই বাংলাদেশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত – বলত এ দেশ টিকবেনা। সেই দেশ এখন আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ  – মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে আঘাত এসেছিল। জাতি হিসেবে আমাদের উপর এ ঘটনা একটি কলঙ্ক – যা কখনো মোচন হবেনা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যেভাবে একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তা থমকে দাড়ায় ১৯৭৫ সালে। তিনি যে স্বপ্ন দেখে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন তা পূরণ করতে – তথা দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ব্রত নিয়ে তাঁর কন্যা ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ১৯৯৬ সালে দেশকে নেতৃত্বের দেওয়ার সুযোগ পান, এর পরের পাঁচ বছর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্বর্ণযুগ।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ সাল হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে। এ তিন মেয়াদে বাংলাদেশের যে আমূল পরিবর্তন হয়েছে তা অবিশ্বাস্য। সকল পর্যায়ে মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সফলতা অর্জন করার সাথে সাথে, সামগ্রিক অর্থনীতিতে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। স্থিতিশীল সরকার থাকার ফলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৭.৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে (এডিবি রিপোর্ট)।

ভূমী মন্ত্রণালয়ের গণমুখী কাজের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মন্ত্রী গুচ্ছগ্রাম ও ভূমিহীনদের জমি প্রদানের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পরেই  সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দেশে জন-বান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার গোড়াপত্তন করেন। তিনি পরিবার প্রতি জমি মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা ৩৭৫ বিঘা থেকে কমিয়ে ১০০ বিঘা নির্ধারণ করেন, ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করেন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন ও দেশব্যাপী ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমি খাজনা মকুফ করা সহ ভূমি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে ভূমি সম্পর্কিত গণমুখী কর্মকাণ্ডগুলো মূলত বঙ্গবন্ধুর গৃহীত কার্যক্রমের সম্প্রসারণ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের প্রতি মন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত জনসেবা প্রদানের আহবান জানান। মন্ত্রী মনে করেন দুর্নীতির কারণে আমাদের প্রবৃদ্ধি  আমাদের প্রাপ্য  থেকে অনেক কম হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত জনসেবা প্রদান দেশকে ভালোবাসার নামান্তর।

আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূমি সচিব মোঃ মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মচারি হিসেবে সেবা করাই আমাদের ধর্ম। স্বাধীনতার চেতনা ও জাতির পিতার চেতনা – এটা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে থাকলে হবেনা। সারা বছর আমাদের কাজের মধ্যে তা প্রমাণ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল হান্নান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিস মাহমুদ, আতাউর রহমান ও সিরাজ উদ্দিন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মধ্যে দিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ শাহাদত বরণকারী সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

Please follow and like us:

About bdsomoy