ব্রেকিং নিউজ

কালুরঘাট সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আদায়ে আ’ লীগে আসার কথা ঘোষণা সাংসদ বাদলের

কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের দাবিতে সাংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদল দীর্ঘসময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন। রাজপথের মিছিল-মিটিং, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ছাড়িয়ে কালুরঘাট সেতু নির্মাণ দাবি জাতীয় সংসদে পর্যন্ত উষ্ণতা ছড়িয়েছেন এই সাংসদ। সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর সাথে অনশনও করেছেন তিনি। এই কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংসদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণাও দিয়েছেন সাংসদ মঈনুদ্দিন খান বাদল।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি না পেলে সাংসদ পদ বর্জন করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এবার এই সড়ক কাম রেল সেতুটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আদায়ে তিনি নিজের দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসার কথাও ঘোষণা করেছেন।

শুক্রবার বিকালে চিটাগাং ক্লাব হল রুমে কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের দাবিতে সাংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদল চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেন। মত বিনিময়ে সাংসদ বাদল শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণের বিনিময়ে আওয়ামী লীগে আসার কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনায় এই পর্যন্ত চারবার সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। অষ্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, বাংলাদেশ ও কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সমীক্ষাগুলো চালিয়েছে। কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সমীক্ষা শেষে মাত্র ১১শ’ ৯০ কোটি টাকায় এই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতার প্রতিবেদন দিয়েছে। এমনকি সেতুটি নির্মাণের ব্যাপারে তারা ৮শ’ কোটি টাকা কোরিয়ান অর্থ সহায়তার প্রস্তাবনাও দেয়। তাহলে সেতুটি নির্মাণে সরকারের মাত্র ৩৯০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সাংসদ বাদল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি চট্টগ্রামের দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। এই চট্টগ্রামের উন্নয়নে আপনি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন। সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম উদ্যোগ কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করছেন। চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল লাইন করতে কালুরঘাট রেল সেতু নির্মাণ করা হবে। আমার দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর একমাত্র দাবি শুধু রেল সেতুর সাথে সড়ক সংযুক্ত করা। এই সড়ক কাম রেল সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাথে সমগ্র দেশের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তিনি বলেন, আমার জীবদ্দশায় কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতুটির বাস্তবায়ন দেখে যেতে চাই। এই সেতুর জন্য আমি আমার ‘সবেধন নীলমণি’ রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি সাংসদ পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার কথা পর্যন্ত বলেছি। আমার দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমি তো আর কিছু চাইনি।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে তিনি আরো বলেন, সেতুর বিনিময়ে যদি আরো কিছু দিতে হয় আমি তাও দিতে প্রস্তুত। যে মাটির জন্য ‘৭১-এ জীবন বাজি রেখেছিলাম, যে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করেছি। সে মাটির জন্য আমি শেষ বারের মত কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতুর বাস্তবায়ন চাই।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে এই কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দল ছাড়ার ঘোষণাও ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাটির টানে ঘর ছেড়েছি। জীবন সায়াহ্নে এসে মানুষের টানে একটি সেতুর জন্য সংসদও ছাড়ব বলেছি। তবুও আমি সড়ক কাম সেতুটি চাই।

তিনি বলেন, প্রেমের টানে মানুষ জাত কূল মান বিসর্জন দেয়। আমি এবার জনগণের প্রেম রক্ষায় নিজের জাত ছেড়ে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগে আসবো। সেতু ছাড়া আমার আর কিছুই চাই না।

সাংসদ বাদলের বক্তব্য থেকে জানা যায়, তিনি সরকারের ট্রেজারি বেঞ্চেরও সম্মানিত সদস্য। তবে একজন সাংসদ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ৩৯০ কোটি টাকা বরাদ্দে তাকে কেন এত কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে- মত বিনিময়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা উস্মা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস বলেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলো প্রায় এক বছর। এই সময়ে চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে সাংসদদের কোন সমন্বিত পরিকল্পনাই তো চোখে পড়েনি। আপনারা সংসদ সদস্যরা আজ পর্যন্ত সামান্য বসেননি। আপনাদের সমন্বয়হীনতাও উন্নয়নের প্রতিবন্ধক-এই প্রসঙ্গ অনেকটা যৌক্তিক। দশের লাঠি একের বোঝা। আপনি এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্যকে নিয়ে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। আমরা সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবো।

এ বিষয়ে সাংসদ বাদল বলেন, জনগণের স্বার্থে সাংবাদিক সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাক্ষাতের জন্য তিনি আহবান জানান।

মতবিনিময়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিভয়েস ২৪ ডট কম সম্পাদক এম নাসিরুল হক, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ ফারুক ইকবাল, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম আবাসিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মোস্তফা নঈম, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ শহীদুল্লাহ শাহরিয়ারসহ উপস্থিত সাংবাদিকরা স্ব স্ব মতামত উপস্থাপন করেন।

Please follow and like us:

About bdsomoy