ব্রেকিং নিউজ

সরকারি কর্তারা সাক্ষ্য দিতে না এলে বেতন আটকে দেয়ার নির্দেশ

সমন জারির পরেও আদালতে সাক্ষ্য দিতে না এলে পুলিশ ও ডাক্তারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন আটকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের এ নির্দেশ দেন আদালত। ২১ বছর আগের একটি হত্যা মামলার আসামির জামিন আবেদনের শুনানিকালে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হচ্ছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। অনেক ফৌজদারি মামলায় সমন ও জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরেও এসব সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হচ্ছেন না। পুলিশ, চিকিৎসকসহ যে সব সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় সাক্ষী রয়েছেন তারা যদি সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হন তাহলে এদের বেতন আটকে দেয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের নির্দেশ দেয়া হল।

আদালত বলেন, অনেক ফৌজদারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্ততকারী পুলিশ সদস্য, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করেন। অনেক পুলিশ সদস্য শান্তি রক্ষা মিশনে, অনেক চিকিৎসক উচ্ছতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশে যান। এদের মধ্যে যারা মামলার সাক্ষী হিসেবে থাকেন তাদের বিদেশে থাকার কারণে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এ থেকে কিভাবে উত্তোরণ করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। উল্লেখ্য, ডেমরায় হযরত আলী ও মাসুদ হোসেন নামে দুই যুবককে কুপিয়ে শরীর থেকে দু’হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয় সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে হযরত আলী মারা যাওয়ার ঘটনায় তার বাবা শওকত আলী ফকির ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ ডেমরা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু ২১ বছরেও এই মামলার একজন সাক্ষীও আদালতে হাজির হননি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব আদেশে বুধবার হাইকোর্টে হাজির হন ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে মামলাটি আমার আদালতে। এই সময়ে সব সাক্ষীকে সমন ও পরোয়ানা জারি করেও হাজির করা সম্ভব হয়নি। এমনকি মামলার বাদীও সাক্ষী দিতে আসেননি। হাইকোর্ট বলেন, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারককে নির্দেশ দেন আদালত। পরে আদালত ওই মামলার আসামি হেমায়েতের জামিন মঞ্জুর করেন।
Please follow and like us:

About bdsomoy