ব্রুনাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিন দিনের সরকারি সফরে ব্রুনাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১০৪৫ ফ্লাইটে ব্রুনাইয়ের দারুসসালামের উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টায় ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দরসেরি বেগাওয়ানে ব্রুনাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। এ সফরে ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন ব্রুনাইয়ের যুবরাজ হাজী আল-মাহতাদি বিল্লাহ। সফরের প্রথমদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। একই দিন তিনি ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী সোমবার ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবনে সুলতান ও রাজকীয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুলতানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে সমঝোতা স্মারক সই হবে। বিকালে প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন এবং সেখানে আসরের নামাজ আদায় করবেন।

শেখ হাসিনা সুলতানের সরকারি বাসভবনে তার দেয়া ভোজসভায় যোগ দেবেন। সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাইয়ের রাজধানীর জালান কেবাংসানের কূটনৈতিক জোনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে তিনি রয়েল রেজালিয়া জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ব্রুনাই থেকে যাত্রা করে সন্ধ্যায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন।

সফরকালে বাংলাদেশ ব্রুনাইয়ের সঙ্গে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে ছয়টি এমওইউ চূড়ান্ত করেছি। বাকি একটি এমওইউ বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে ব্রুনাইয়ের বিনিয়োগ আশ্বাস পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। এমওইউগুলো হচ্ছে- কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও জ্বালানি সেক্টর সহায়তা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ সফর খুবই সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, খাদ্য, আকাশপথে যোগাযোগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পর্যটন এবং প্রযুক্তি সেক্টরে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে। ব্রুনাই এরই মধ্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টর বিশেষ করে কৃষি ও জ্বালানি সেক্টরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ কে আবদুল মোমেন বলেন, সফরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে ব্রুনাইয়ের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, আমরা যেখানেই যাচ্ছি, আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ব্রুনাই আসিয়ানের সদস্য হওয়ায় এ সফরেও বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পাবে।

Please follow and like us:

About bdsomoy