ব্রেকিং নিউজ

আজ পবিত্র শবেমিরাজ

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে বুধবার রাতে মুসলিম বিশ্বের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও কোরআনখানি, নফল নামাজ, জিকির, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবেমিরাজ উদযাপন করবেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষে এই রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে ঊর্ধ্বাকাশে আরশে আজিমে আরোহণ করেন এবং আল্লাহর দিদার লাভ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ উপলক্ষে ওয়াজ ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। মাহফিলে ওয়াজ পেশ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম।

ফার্সি ‘শব’ অর্থ রাত্রি বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মিরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে এ রাত পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ পালিত হবে। বিশ্ব মুসলিমের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, নফল রোজা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবেমিরাজ পালন করে থাকেন।

৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রজব দিবাগত রাতে মহানবী (সা.) আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে মিরাজ গমন করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ঈসরাইল ও সুরা নজমের আয়াতে, তাফসিরে এবং সব হাদিস গ্রন্থে মিরাজের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। তিনি সশরীরে আল্লাহর কুদরতি বাহনে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করে আল্লাহর দিদার লাভ করেন।

পবিত্র এই রাতে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে নবীজি প্রথমে বায়তুল্লা শরিফ থেকে বোরাকে চড়ে বায়তুল মুকাদ্দাস গমন করেন। সেখানে হজরত আদমসহ (আ.) অন্য নবীদের নিয়ে মহানবী (সা.) দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি এই রাতেই সপ্তম আকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন। এরপর রফরফ নামক বাহনে চড়ে তিনি আল্লাহর অনুগ্রহে আরশে আজিমে পৌঁছেন। আল্লাহতায়ালার দিদার লাভ ও সরাসরি কথোপকথন শেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মিরাজ রাসুল (সা.)-এর জীবনে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

দিবসটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মিরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শিরোনামে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ পেশ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে এ রাত পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ।

Please follow and like us:

About bdsomoy