ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি

ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি। আমি ইন্টারনেট থেকে সেটুকুই নেবো, যেটুকু আমার জন্য ভালো। তবে মনে রাখতে হবে- পৃথিবীতে আমাদের চারপাশে যা আছে, তার সবটাই ভালো না। ভালোর সঙ্গে খারাপও আছে। এ একটি জায়গায় যদি তোমরা ঠিকভাবে চলো, তাহলে তোমাদের কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। মায়ের সঙ্গে কখনো মিথ্যে কথা না বলতে স্কুল শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।১১ মার্চ নগরের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ই-লার্নিং মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাবা-মায়ের মধ্যে একটা ধারণা কাজ করে- সন্তানরা ইন্টারনেট ব্যবহার করলে, গেইম খেললে নষ্ট হয়ে যাবে। তবে আমার মত এর উল্টোটা। আমি মনে করি, প্রতিটি ছেলে-মেয়ের ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত। গেইম খেলা উচিত। সন্তান যদি নষ্ট হয়, ইন্টারনেট কিংবা গেইম খেলার কারণে নষ্ট হয় না। তারা নষ্ট হয়, বাবা-মায়ের যত্নের অভাবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবস্থা তৈরি করতে ২০ বছর ধরে লড়াই করছি। এ লড়াইয়ের একটা অংশ আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি মনে করি, লেখাপড়া শিখার জন্য এখন আর কাগজের বইয়ের দরকার নেই। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পরীক্ষার হলের দরকার নেই। এসব কিছু আমরা প্রমাণও করেছি। যার ফল ই-লার্নিং সিস্টেম।

তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে গাজীপুরে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। সেই স্কুলে আমি একটা নতুন বিষয় ইন্ট্রোডিউস করি। আমার স্কুলে যদি কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস ওয়ানে পড়ে, সেই শিক্ষার্থীকেও কম্পিউটার শিখতে হবে। এ কারণে অনেকে আমাকে পাগল বলেছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। ২০ বছর আগে যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি দেখেছি, সেটা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামে পড়লেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার মতো স্কুল গ্রামে ছিলো না। বাড়ি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের স্কুলে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। পড়ালেখা করেছি। বড় হয়ে ভাবলাম, এই কষ্ট যদি থেকে যায়, তাহলে আমার গ্রামের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা হবে না।

তিনি বলেন, সেই চিন্তা থেকে গ্রামে ছেলেদের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করলাম। তবে কয়েক বছরেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন পেলাম না। কথা বলার ফাঁকে একদিন মাকে জিজ্ঞেস করলাম- এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে ছেলেরা পড়ালেখা করছে। কিন্তু এখনও কেউ বাড়িঘর পরিষ্কার রাখে না। বাড়িতে গেলে সবার জন্য একটা চৌকিও কেউ দিতে পারে না। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করে না। দাঁত ব্রাশ করে না। জীবনযাত্রার মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পরিবারগুলো বদলায়নি। এর কারণ কী?

‘মা বললেন, ‘‘বাবা, এই যে বাড়ি-ঘর, পরিবেশ বদলানোর কথা তুমি বলছো, এটা করে মেয়েরা। বাড়ি-ঘর কোনো পুরুষ মানুষ বদলায় না। তুমি যদি মেয়েদেরকে পড়ালেখা না করাও, তাহলে এই বড়ি-ঘর বদলাবে না।’’ এরপর আমার বোধোদয় হলো। আমি মেয়েদের জন্য স্কুল করলাম। আজকে আমি গর্ববোধ করে বলতে পারি, যে গ্রামে এক সময়ে দাঁত ব্রাশ করা লোক পাওয়া যেতো না, সেই গ্রামের প্রতিটি শিশু এখন শিক্ষা গ্রহণ করে’ বলেন প্রযুক্তিমন্ত্রী।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেসিপ এর যুগ্ম প্রোগ্রাম পরিচালক মো. আবু ছাইদ শেখ, ইএটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মুবিন খান, সেসিপ এর পরামর্শক একেএম শামসুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আজিজ উদ্দিন এবং নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম হোসাইনী।

Please follow and like us:

About bdsomoy