ফরজ নামায শেষে মাথায় হাত রেখে কোন কিছু পড়ার প্রমাণ আছে কি?

প্রশ্ন : ফরজ নামায শেষে মাথায় হাত রেখে কোন কিছু পড়ার প্রমাণ আছে কি? অনেক ভাইকে এমনকি আলেম উলামাকেও দেখা যায়, তারা নামায শেষে মাথায় হাত রেখে কী যেন পড়ে থাকেন। আমি মনে করি বেদআতিরা করে থাকে৷ এভাবে নামায শেষে মাথায় হাত রেখে কোন কিছু পড়া কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
মোঃ শামসুল হুদা,বাহুবল,হবিগঞ্জ,সিলেট৷
উত্তর:
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
হ্যাঁ, হাদীসে এমন বর্ণনা পাওয়া যায়।না বুঝে কাউকে মনগড়া বেদআতি বলা মূর্খ ও মুনাফিকের কাজ৷আমার মনে হয় আপনি আরাবী বা বাংলাতে বেদআতের সংজ্ঞা বলতে পারবেননা৷ বেদআত- বেদআত বলে চিল্লা- চিল্লি না করে যোগ্যতা এবং সাহস থাকলে প্রশ্ন করুন৷ইনশাআল্লাহ! সুন্নীরা প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে কিন্তু আসল বেদআতি ওহাবী,মওদুদী,সালাফী,হিজরা লা-মাজহাবীরা সুন্নীদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেনা-নামাজ শেষে মাথায় হাত রেখে দোআ-দুরুদ শরীফ পড়া মুস্তাহাব বা ছওয়াবের কাজ৷যেমন হাদীছ শরীফে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছেঃ
ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺻﻠﻰ ﻣﺴﺢ ﺑﻴﺪﻩ ﺍﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺳﻪ ﻭﻳﻘﻮﻝ : ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺬﻱ ﻻ ﺇﻟﻪ ﻏﻴﺮﻩ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ، ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺃﺫﻫﺐ ﻋﻨﻲ ﺍﻟﻬﻢ ﻭﺍﻟﺤﺰﻥ ”
হযরত আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি যখন নামায পড়তেন, তখন ডান হাত মাথায় রাখতেন ও বলতেন “বিসমিল্লাহিল্লাজী লা ইলাহা গাইরুহু। আররাহমানুর রাহীমু, আল্লাহুম্মা আজহিব আন্নীল হাম্মা ওয়ালহুজনা। {কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৭৯১৫}
এ আমলকে জরুরী বা সুন্নত মনে করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং যেহেতু হাদীসে এসেছে, তাই আমল করা। এর জন্য বিশেষ ফযীলতও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বাকি বুজুর্গানে দ্বীন এর উপর আমল করেছেন। বিশেষ ফযীলত বলা ছাড়াই। আবার এটিকে জরুরী বা সুন্নত বলা ব্যতিতই। সেই সাথে এটিকে বিদআতও বলা যাবে না। যেহেতু হাদীস পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা কিছুতেই কাম্য নয়।
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ
খাদিমুল ইফতাঃ
{মুফতি শাইখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নকশবন্দী-মুজাদ্দেদী,সদরসিলেট}
Please follow and like us:

About bdsomoy