ব্রেকিং নিউজ

ইসলাম একটি পূর্ণঙ্গ জীবন ব্যবস্থা : অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য,আমরা তাঁর গুণগান করছি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি, তাঁরই উপর ভরসা করি, তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তাঁকে অস্বীকার করি না। আমাদের আত্মার অনিষ্ঠতা হতে ও মন্দ আমলের প্রভাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হিদায়ত করতে পারে না। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সরদার, আমাদের মহান নবী, আমাদের অভিভাবক, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় বান্দা ও প্রিয় রাসূল। তাঁর উপর দরুদ সালাম বর্ষিত হোক, তাঁর পবিত্র বংশধরগণ সম্মানিত সাহাবাগণ, সকলের উপর অসংখ্য করুণাধারা বর্ষিত হোক।
সম্মানিত মুসলিম ভাইয়েরা! আপনারা আল্লাহ তা’য়ালাকে ভয় করুন! জেনে রাখুন, নিশ্চয় আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা ইসলামকে আমাদের পবিত্র ধর্ম ও জীবন বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ইসলামই একমাত্র আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম। ইসলাম শব্দটি সিলমুন থেকে নির্গত, এর অর্থ আনুগত্য করা, মেনে চলা, বশ্যতা স্বীকার করা তথা অবনত হওয়া। আমাদের মহান ইমাম হযরত ইমাম আবু হানিফা (র.) এর মতে “ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ সমূহ মেনে নেয়া, সেগুলোর অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিষিদ্ধ বিষয়াদি পরিত্যাগ করার নামই ইসলাম।
আল্লামা আবুল বারাকত নাসাফী (র.) এর মতে ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর পবিত্র সত্তার প্রতি তাঁর নাম ও গুণাবলীর মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা ও শরীয়তের বিধানাবলী মেনে চলা। মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদে ইসলামের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত এরশাদ করেছেন, ইসলাম ছাড়া সকল মতবাদ বাতিল তথা অপসৃত।
আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন (সূরা: আল ইমরান, আয়াত নং: ১৯)
ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন পন্থায় কোন প্রকার প্রচেষ্টা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। “ আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেছেন, কেহ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে ইচ্ছা করলে তা কখনো কবুল হবে না এবং সে হবে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত (সূরা: আল-ইমরান, আয়াত : ৮৫)
ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান যা মানব জীবনের প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেমন আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেছেন, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম (সূরা: মায়িদা: ৫,৩)
সম্মানিত মুমীনগণ!
আমাদের জানা অপরিহার্য যে, আমাদের জীবন সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে সফলতা সৌভাগ্য, উন্নতি অগ্রগতি ইসলামী জীবন বিধান অনুসরণে নিহিত। ইসলামী বিধি বিধান ও অনুশাসন আমাদের জীবনে অনুসৃত হলে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইসলামের গুরুত্ব তাৎপর্য শিক্ষা ও শিষ্টাচারিতা সম্পর্কিত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অসংখ্য হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে, নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস উপস্থাপিত হলো:
ইসলামের পঞ্চ ভিত্তি: হযরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (র.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন। পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত।
১.সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। ২. নামায কায়েম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হজ্বব্রত পালন করা। ৫. রমজানের রোযা রাখা। (বোখারী শরীফ ১ম খণ্ড হাদীস নং ৮, মুসলিম শরীফ ১ম খণ্ড হাদীস নং ১৬)
হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ কে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে, সেই ব্যক্তি ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভ করেছে।(বোখারী শরীফ, ১ম খণ্ড পৃ: ১১৭)
ইসলামের উপর অবিচল থাকা: হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ সাকাফী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরজ করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন একটি শিক্ষা প্রদান করুন যে সম্পর্কে আপনার পরে আর কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না। তিনি বললেন, একথা বলো আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। অত:পর একথার উপর অটল অবিচল থাকো। ( সহীহ মুসলিম শরীফ, ১ম খণ্ড পৃৃ: ১২০)
ইসলামের সৌন্দর্য: আমাদের উপর অপরিহার্য হলো প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে সকল প্রকার অশ্লীলতা পরিহার করা,অনর্থক অর্থহীন কথা-বার্তা পরিত্যাগ করা আমাদের উচিৎ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, হযরত আলী ইবন হোসাইন (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, হাদীসে এরশাদ হয়েছে, অর্থহীন অযথা অহেতুক কথাবার্তা পরিহার করা মানুষের জন্য ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৩১৭) আল্লাহ তা’য়ালা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য তাঁর প্রিয় রাসূলকে হিদায়ত ও সত্যদ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্ব মানবতার জন্য অনুকরণীয় উত্তম ও শ্রেষ্ঠতম আদর্শ।
তাকদীরের উপর ঈমান রাখা: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই অশ্লীল কথা ও কাজ এবং অশ্লীলতার অভিনয় ইসলামে এর কোন স্থান নেই। নিশ্চয়ই মানুষদের মধ্যে ইসলামে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তাদের মধ্যে চরিত্রের দিক দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর। (মুসনাদে আহমদ)
হযরত আদী ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণনা করেন আমি নবীজির দরবারে উপস্থিত হলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন হে আদী ইবন্‌ হাতিম ইসলাম গ্রহণ কর। নিরাপদ ও শান্তিতে থাকবে। আমি বললাম ইসলাম কী? নবীজি বললেন, এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আমি আল্লাহর রাসূল, আর তাকদীরের ভাল মন্দের উপর ঈমান রাখ। মিষ্ট হোক তিক্ত হোক। (ইবন মাযাহ শরীফ ১ম খন্ড, হাদীস নং ৮৭)
হযরত মুযাবিয়া ইবন হায়দা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যরূপে প্রেরণ করেছেন। আমাকে বলুন ইসলাম কী? রাসূলাল্লাহ এরশাদ করেছেন, তা’হল তুমি তোমার অন্তর আল্লাহর জন্য সোপর্দ করবে, তোমার চেহারা আল্লাহর মুখী করবে। অর্থাৎ অপরের মুখাপেক্ষী হবেনা (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১ম খন্ড, হাদীস নং ১৬০)
সালাম করা ইসলামের আদর্শ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইসলামে কোন কাজটি উত্তম? নবীজি এরশাদ করেছেন তোমরা অন্য জনকে খানা খাওয়াবে, পরিচিত বা অপরিচিত জনকে সালাম করবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ১২)
হে দ্বীনি ভাইয়েরা! ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ধর্ম ও বিশ্বজনীন জীবন বিধান যা আল্লাহর মনোনীত। আমাদের উচিত পরিপূর্ণভাবে ইসলামের উপর আমল করা ইসলামের নির্দেশাবলী অনুসরণ করা ও নিষিদ্ধ বিষয়াদি যথাযথ ভাবে বর্জন করা।
আল্লাহ আমাদের আপনাদের সকলকে কুরআনের বরকত দান করুন। কুরআনের আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ দ্বারা আমাদের নাজাত দান করুন। বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্টতা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেছেন, হে মুমীনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা। কেননা শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (আলকুরআন, সূরা: বাক্বারা আয়াত নং ২০৮)
লেখক : খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।

Please follow and like us:

About bdsomoy