ব্রেকিং নিউজ

মেয়রের সহায়তায় চমেক হাসপাতালের সীমানা নির্ধারণ কাজ শুরু

মেয়রের সহায়তায় চমেক হাসপাতালের সীমানা নির্ধারণ কাজ শুরু। তিয়ান মতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব ভূসম্পত্তি ৮০.৮৩ একর। তবে অবৈধ দখল,সীমানা বিরোধ সহ নানামুখী জটিলতায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮ একর সম্পত্তি বেদখল হয়ে আছে। চমেক হাসপাতালের দখলে আছে বর্তমানে ৭২.৪২ একর জায়গা। বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। এবার চমেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিষদ বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে আবার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। একই সাথে নিজস্ব ভূমিতে অবৈধ ভাবে বসবাসকারী উচ্ছেদেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ঘোষণা “সুশাসন ও অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স ” নীতিকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদ সভাপতি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সীমানা নির্ধারণের এই কার্যক্রমে চসিকের সার্ভে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হবে। সীমানা নির্ধারণের সাথে সাথে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করার পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তির ৪টি স্পট নিয়ে দখলদারীদের সাথে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে চসিকের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদেরকে দায়িত্ব অর্পন করা হবে।
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন মেয়র।
তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে হাসপাতালের ৪’শটি টয়লেট সংস্কার, পরিস্কারপরিচ্ছন্নতায় হাসপাতাল চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মী পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তাছাড়া এলাকায় রাস্তা, ড্রেন সংস্কার ও নির্মাণ, একটি ব্রীজ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
মেয়রের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ।
সভায় চমেক হাসপাতালের পানি সরবরাহ প্রসঙ্গে বলা হয়, বর্তমানে হাসপাতালের পানি চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ লিটার। অথচ চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষ থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ হাজার লিটার। মেয়র সাথে সাথে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করেন।
হাসপাতালের সরকারি ওষুধ অবৈধ ভাবে খোলা বাজারে বিক্রি, জন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তা মো মিজান বলেন, সরকারি ওষুধ খোলা বাজারে বিক্রি প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যো নেয়া হয়েছে। কিছু দিন আগে একজন অবৈধ ওষুধ বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোগী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করণেও পুলিশ কাজ করছে। দালাল চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৭ জন পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে চমেক অধ্যক্ষ ডা সেলিম মো জাহাঙ্গীর, বিএমএ সভাপতি ডা মুজিবুল হক খান,ডা শেখ শফিউল আযম,বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা ফয়সল ইকবাল চৌধুরী স্ব স্ব মতামত উপস্থাপন করেন। প্রত্যেকে বেদখল হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধার করার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। তারা অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষে মত দেন।
সভায় চমেক হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মাদার মিটার ও সাব মিটারের গরমিল প্রতিরোধে গ্রাহকদেরকে একক মিটার প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সাথে এলাকায় বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো সামসুদ্দোহা, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা মো কাশেম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো শাহজাহান ও চমেক হাসপাতাল তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Please follow and like us:

About bdsomoy