ব্রেকিং নিউজ

ফারমার্স ব্যাংকের নাম বদলে হচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

বহুল আলোচিত ফারমার্স ব্যাংকের নাম বদলে যাচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে ‘পদ্মা ব্যাংক’। একইসঙ্গে ব্যাংকের পরিচয় বহনকারী নিদর্শন লোগ ও রংয়েও লাগবে পরিবর্তনের হাওয়া। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করবে ব্যাংকটি।

নানা সংকটে পড়ে এ ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা তলানীতে নেমে যায়। পরে ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা আসার পর থেকে আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে এসে মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং তারল্য সংকট দূর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) সমন্বয় করার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটির রিব্র্যান্ডিংয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসাবে গত বছর থেকে কাজ করছে ব্যাংকটি।

যোগাযোগ করা হলে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু বলেন, ব্যাংকের দিক থেকে সব প্রস্তুতি শেষ করে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চেয়েছি। এখন আরজেএসসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনগত কাজ শেষ করে অনুমোদন দিলেই আমরা নতুন নামে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো। এ ছাড়া বিদেশি করসপন্ডেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোসহ বেশ কিছু কাজ রয়েছে। এ সব কাজ শেষ করতে এ মাসের শেষ নাগাদ চলে যাবে। এরপর থেকে আমরা নতুন নামে কাজ শুরু করতে পারবো।

২০১৩ সালের জুনে কার্যক্রম শুরু করার চার বছরের মধ্যে নানা সংকটের কারণে আলোচনায় আসে ব্যাংকটি। আমানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম ভঙ্গ করে। অনিয়মের অভিযোগে কঠোর অবস্থানে যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। পরিবর্তন আসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদেও। তবে আস্থার সংকট সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাহকদের একটি বড় অংশ তাদের আমানতের অর্থ তুলে নিতে শুরু করে। ফলে মারাত্মক তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। তারল্য সংকটে পড়ে অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে, রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর ও ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) অর্থ পরিশোধ করতেও পারছিল না ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) রাখতে পারেনি ওই সময়। গ্রাহকের অর্থও সময় মতো দিতে পারেনি। বিশেষ করে বড় অংকের টাকা দিতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকটি। এতে সে সময় ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনও আটকে গিয়েছিল।

ফারমার্স ব্যাংক জন্মের আগে থেকেই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ করতে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার আগেই অফিস খুলে, সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া শুরু করে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই আগ্রাসীভাবে ব্যাংকিং শুরু হয়। ঋণ বিতরণে নিয়ম মানা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েও যখন কোনো কাজ হচ্ছিল না; তখন একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে এ ব্যাংকের সব ধরনের ঋণ বিতরণ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ব্যাংক চালান কিন্তু ফারমার্স ব্যাংক চালাতেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা। ফলে ব্যাংকের মধ্যে কোনো চেইন অফ কমান্ড ছিল না। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসায় এখন সে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। নতুন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি হওয়ার পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ফারমার্স ব্যাংক আলাদা আলাদাভাবে অডিট শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণে খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ব্যাংকটি।

বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের একটি ফারমার্স ব্যাংক। ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৭ নভেম্বর পদত্যাগ করেন ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মাহাবুবুল হক চিশতী। এরপর ব্যাংকের এমডি এ কে এম শামীমকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ফারমার্স ব্যাংকের শাখা সংখ্যা ৫৭টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ গত হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকটি পাঁচ হাজার ৩১০ কোটি ৭২ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। যার মধ্যে ৩ হাজার ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় প্রভিশনও বেশি করতে হওয়ায় এখনও নগদ টাকার সংকটে রয়েছে ব্যাংকটি।

Please follow and like us:

About bdsomoy