ব্রেকিং নিউজ

শ্বাসকষ্টে রোগ অ্যাজমা ও সিওপিডি

অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালীর রোগ; যেখানে বিভিন্ন উত্তেজকের প্রভাবে শ্বাসনালীগুলো সংকুচিত হয় এবং শ্বাসনালীর ভেতরটা লাল হয়ে ফুলে যায়। এর মূল উত্তেজক বা কারণ হিসেবে ঠাণ্ডা বাতাস, ফুলের রেণু, ঘরের ধুলায় অবস্থিত মাইট নামক কীট ইত্যাদিকে ধরা হয়। শ্বাসনালীর ভেতরটা ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসনালীর পেশিগুলো সংকুচিত হওয়ার কারণে নিঃশ্বাস ফেলার সময় সাঁ সাঁ শব্দ করা, বুকের ভেতর আঁটসাঁট অনুভব করা, শ্বাস নিতে-ফেলতে কষ্ট অথবা শুকনা কাশি নিয়ে হাঁপানি রোগীরা চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়।

হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগীর সংকুচিত শ্বাসনালীর মধ্যে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, যেমনটা হয় সিওপিডির ক্ষেত্রেও। তাই অনেক সময় হাঁপানি থেকে সিওপিডি আলাদা করা কঠিন হয়। কিছু মানুষের সিওপিডি এবং অ্যাজমা দু’টোই থাকতে পারে। অ্যাজমাকে সবাই রোগ হিসেবেই জানে, যেটা কিনা বাচ্চা এবং প্রাপ্তবয়স্ক যে কারও হতে পারে।

অ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্তের সময় শ্বাসনালীগুলোতে প্রদাহ হয় এবং ভেতরটা ফুলে যায়, শ্বাসনালী সংকুচিত হয় এবং শেষ্মা-আঠালো জাতীয় কফ তৈরির কারণে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এ শ্বাস নেয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে নিঃশ্বাস নিতে এবং ফেলতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়।

সিওপিডি এবং অ্যাজমা : সিওপিডি এবং অ্যাজমা-হাঁপানির লক্ষণগুলো প্রায় একই রকম হওয়ায় দুটোর মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় মুশকিল হয়ে পড়ে। আমরা এটা জানি যে, অনেক লোকের সিওপিডির সঙ্গে ক্রনিক হাঁপানিও থাকে, বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অনেক সিওপিডি রোগীকে হাঁপানির রোগী হিসেবে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। হাঁপানি এবং সিওপিডি দুটি আলাদা অসুখ এবং সৃষ্টির কারণ ভিন্ন। এ রোগ দুটি শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে এবং এদের চিকিৎসাও তাই কিছুটা ভিন্ন। এ কারণে হাঁপানি, সিওপিডি এ দুটিই সঠিকভাবে নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। লাং ফাংশন টেস্টের (স্পাইরোমেট্রি) মাধ্যমে বেশিরভাগ সময় সঠিকভাবে এ দুই রোগকে পার্থক্য করা যায়।

অধ্যাপক ডা. মো. রাশিদুল হাসান, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইনজিনিয়াস পালমোফিট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, মোবাইল : ০১৭০১৬৭৭৭৮৮

Please follow and like us:

About bdsomoy