মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
প্রচ্ছদজাতীয়অবশেষে লিমনের সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

অবশেষে লিমনের সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো কিশোর লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের অনুরোধে এবং লিমনের বয়স বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লিমনকে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলালয় সূত্র।

মানবাধিকার কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়্যারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি অনানুষ্ঠানিক চিঠি (ডিও লেটার) লিখেন। ১৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে এ চিঠি পৌঁছে। চিঠিটি নথিভুক্ত করার জন্য ২০ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

মানবাধিকার কমিশনের ওই চিঠিতে বলা হয়, লিমনের প্রতি নির্মম আচরণ ও তার বিরুদ্ধে করা মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে র‌্যাবের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একইসঙ্গে রাষ্ট্রের মানবাধিকার ভূমিকা নিয়েও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালত লিমনের চিকিৎসার বিষয়ে যে আদেশ দিয়েছেন, তার কোনো বাস্তবায়নও হয়নি।

২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপেজলার সাতুরিয়া গ্রামে র‌্যাবের গুলিতে আহত হন লিমন। এ কারণে ওই বছর তিনি আর এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। লিমনের অভিযোগ, বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে র‌্যাবের সদস্যরা তাকে ধরে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন। পরে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার খরচ চালান। একপর্যায়ে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লিমনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা লিমনের জীবন বাঁচাতে তার বাম পা ঊরুর নিচ থেকে কেটে ফেলেন।

এ ঘটনার পর বরিশালে র‌্যাব-৮-এর তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) লুৎফর রহমান বাদী হয়ে লিমনসহ আটজনের নামে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা করেন। একটি অস্ত্র আইনে, অপরটি সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে। মামলা দুটিতে লিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে র‌্যাবের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের করা মামলা পুলিশ নেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলাটি নেয়। কিন্তু পরে মামলাটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে শেষ করে দিয়েছে পুলিশ। এ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে সেটাও খারিজ করে দেন ঝালকাঠির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ