রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
প্রচ্ছদটপহারলেন তোফায়েল

হারলেন তোফায়েল

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

আজমত উল্লাহ খান হারেননি। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে তোফায়েল আহমেদও হেরেছেন। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা দিয়েছিলেন যে করেই হোক গাজীপুর তাকে এনে দেবেনই। দিতে তো পারলেন না। এমন পরাজয়ের গ্লানি তাকে বইতে হবে অনেকদিন। গাজীপুর দখলে তোফায়েল আহমেদের কৌশলগুলো ব্যর্থ হওয়ায় দলের ভেতরেই এখন কোণঠাসা তিনি। ওয়ান ইলেভেনে তার কপাল পুড়েছিল। সংস্কারবাদী হওয়ার অভিযোগে তাকে দলের শীর্ষ ফোরাম থেকেও বাদ দেন শেখ হাসিনা। এ নিয়ে কতো সমালোচনা হয় দেশি-বিদেশি নানা মহল থেকে। কিন্তু শেখ হাসিনা তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। মাঝখানে মন্ত্রীর অফার দেয়ার পর তোফায়েল আহমেদ নিজেই তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে দলনেত্রী আরও ক্ষুব্ধ হন। এই যখন অবস্থা তখন চার সিটি নির্বাচনে দায়িত্ব পান তোফায়েল আহমেদ। ঘুরে বেড়ান সর্বত্র। নানা কৌশলও গ্রহণ করেন তিনি। ফল অনুকূলে না আসায় গণভবন বৈঠকে গাজীপুরকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। একাধিক বৈঠকে তিনি বলেন, কিছু পদক্ষেপ নিলেই আজমত উল্লাহ জয় পাবেন। গোয়েন্দা রিপোর্টকে হাস্যকরও বলেন। তিনি যুক্তি দেখান গাজীপুর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। মান্নান থেকে আজমত উল্লাহ ভাল প্রার্থী। সর্বশক্তি নিয়োগ করলে জয় পেতে অসুবিধা হবে না। তোফায়েল আহমেদ জানেন না সরকারের জনপ্রিয়তা একদম তলানিতে। কোন কূটকৌশলেই কাজ হবে না। টাকা আর মাসলম্যান দিয়ে যে নির্বাচন হয় না আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে গাজীপুরে। যাই হোক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গোড়া থেকেই ভিন্নমত পোষণ করে আসছিলেন। তিনি যে কারণে সিটি নির্বাচনকালে কোন ভূমিকাই রাখেননি। অনেকটা রাজনৈতিক ছুটিতে রয়েছেন। দলের অনেক সিদ্ধান্তে তিনি একমত নন। তোফায়েল আহমেদ যখন নানা যুক্তি দেখাচ্ছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে, আপনিই দায়িত্ব নেন। বলেন, জয় কিন্তু আমাদের পেতেই হবে। এ নির্বাচনে হারলে আমাদের রাজনৈতিক মৃত্যু হবে। কোন মেকানিজমে জিতলে সাময়িক সমালোচনা হবে। এটা বরং মানা যায়। কিন্তু পরাজয় মেনে নেয়া কঠিন হবে। বিরোধীরা আরও সুযোগ পেয়ে যাবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, পরাজয়ের প্রশ্নই ওঠে না। প্রশাসনকে কাজে লাগাতে হবে। মান্নানের দুর্নীতির খতিয়ান দিতে হবে। এনবিআরকে বলতে হবে তার ট্যাক্সের ফাইল বের করতে। গণভবনে ডেকে জাহাঙ্গীর আলমকে বসিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় সেই বৈঠকে। এরপর জাহাঙ্গীরকে কৌশলে গণভবনে এনে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ ঘোষণা দেন। জাহাঙ্গীর অবশ্য এ ঘটনার পর চারদিন নিখোঁজ থাকেন। এক সকালে শোনা যায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীর নাটক শেষ হলেও জের থেকে যায়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কোন অবস্থাতেই মহাজোট প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন না। অনেকটা চাপে পড়ে নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে সমর্থন দেন। যদিও তার দলের তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, এরশাদ সমর্থন না দিলে আরও দুই লাখ ভোট কম পেতেন আজমত উল্লাহ খান। আওয়ামী লীগে তোফায়েল-বিরোধী গ্রুপ এখন নানা কথা বলে বেড়াচ্ছে। তাদের কথা, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ এখন সান্ত্বনা খুঁজছেন। বলছেন, আওয়ামী লীগ হেরে গেলে বলা হয় জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। আর জিতলে বলা হয় কারচুপি হয়েছে। আমরা যাবো কোথায়? পক্ষকাল যাবৎ তোফায়েল আহমেদ মিডিয়ায় সরব ছিলেন। বিএনপির অভিযোগের জবাব দিয়েছেন একাধিক সংবাদ সম্মেলন করে। সংস্কারপন্থির তকমা মাথায় নিয়ে তোফায়েল আহমেদ ভালই ছিলেন। দলের শীর্ষ ফোরামে না থাকলেও দাপটের সঙ্গেই আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছেন। শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি চাপ সহ্য করে গাজীপুর ছেড়ে দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদের কাছে। নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর হাসিনা এখন বলবেন, দেখলেন তো যাদেরকে দলের মূল নেতৃত্বে আনতে চান তাদের অবস্থা!

আরও পড়ুন

সর্বশেষ