মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
প্রচ্ছদজাতীয়বিচার বিভাগের উপর মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক সাথে কাজ করতে...

বিচার বিভাগের উপর মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে-

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিচার বিভাগের উপর মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিচার বিভাগে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের লক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপি এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইন সচিব এএসএসএম জহিরুল হকের সভাপত্বিতে অন্যন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতীয় আইন সহায়তা প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম-সচিব সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ও জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি প্রকল্পের চিফ টেকনিকেল এডভাইজার ক্রিশ্চিয়ান এলডন। কর্মশালায় বিভিন্ন জেলার মেজিষ্ট্র্যাট, পিপি ও পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে ফাইল জমা দিতে, শুনানিতে মামলা কার্যতালিকায় নিতে, আদেশের কপি পেতে এমনিভাবে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়।

তিনি বলেন, পিপি হওয়ার আগে বিভিন্ন ভাবে তদবির করে থাকেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের দিয়েও তদবির করা হয়। পিপি সরকারী আইনজীবী হওয়ার পরে মামলার বিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালন করেন না।
বিচার বিভাগের উপর মানুষের যে আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে তা থেকে এ বিভাগকে সম্মানজনক অবস্থানে ফিরিয়ে আনাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ কর্মশালার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কাজের বিভিন্ন ধাপের সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ে ও জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের “মামলা ব্যবস্থাপনা কমিটি” সম্পর্কে অধিক ধারণা প্রদান ও কমিটি গঠনতন্ত্র, কার্যপ্রণালী এবং প্রত্যাশিত সুফলসমূহের আলোচনাসহ বিভিন্ন স্তরের আলোচনা ও পর্যালোচনা করা এবং এই সকল কাজের মাধ্যমে প্রকল্পের দুটি পাইলট (কুমিল্লা ও পাবনা) মামলা ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, ফৌজদারী মামলা দিন দিন বেড়েই চলছে। যা বিচার বিভাগের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তাই ছোট খাট বিষয়ের মামলাগুলো আদালতের বাইরে নিস্পত্তি করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রকৃত আসামিরা (অপরাধীরা) যেন পার না পায় সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থায় দুটি দিক। একটি হলো, ফৌজধারী ও দেওয়ানী ব্যবস্থা। ফৌজধারী মামলা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো এতো মামলা পৃথিবীর কোথাও নেই বলেও মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বিচারক, আইনজীবী, সরকারী আইনজীবী পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, ও স্বামী-স্ত্রীতে কোন পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত (রেকর্ড) না করে প্রি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগী হতে গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী।
কর্মশালায় আসা বিভিন্ন জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনমন্ত্রীকে বলেন, ‘বর্তমানে পিপিদের যে বেতন ভাতা দেয়া হয় তাতে পোষায় না।’ এ সময় আইনমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, তাহলে পিপি হওয়ার জন্য এতো তদবির করা হয় কেন?

আরও পড়ুন

সর্বশেষ