মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৪
প্রচ্ছদআরো খবর......কস্ট মডিউল ছাড়া ওয়াইফাই ইন্টারনেটের দাম অস্বাভাবিক বেশি নির্ধারণের প্রতিবাদ

কস্ট মডিউল ছাড়া ওয়াইফাই ইন্টারনেটের দাম অস্বাভাবিক বেশি নির্ধারণের প্রতিবাদ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক কস্ট মডিউল ছাড়া একতরফাভাবে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সার্ভিসের অস্বাভাবিক বেশি দাম নির্ধারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন। বুধবার সকাল ১১টায় সংগঠনের পুরানা পল্টনস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জুলীয়াস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সভায় অন্যান্যদের মাঝে বাংলাদেশ টেলিকম সাবস্ক্রাইবার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শার্দুল আহমেদ সেনা, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও আইসিটি অব বাংলাদেশ- ইয়াহু গ্রুপের মডারেটর এম.এ. কবির, সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান ও মো. আরব আলী, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মেহেদী হাসান তাফসীর, ইউল্যাবিয়ান ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রায়হান বিজন, সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বায়েজিদ ইবনে হক, সেলিম মোড়ল, জাহিদ হাসান মিন্টু, শেখ মোহাম্মদ জুয়েল, শাকিল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে জুলীয়াস চৌধুরী বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্যহার বিটিআরসি কর্তৃক প্রতি মেগাবাইট ১০ পয়সা এবং প্রতি গিগাবাইট ১০ টাকা হারে এবং সর্বনিন্ম গতি ৫১২ কিলোবাইট অবিলম্বে নির্ধারণ ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে চাপের মুখে বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মাওলা ভুইয়া গত ০৫ জুন ২০১৩ খৃস্টাব্দ তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে জানান, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সার্ভিসের দাম নির্ধারণ কস্ট মডিউল ছাড়া সম্ভব নয়।

একই দাবিতে গত ১২ জুন ২০১৩ খৃস্টাব্দ বুধবার বিকেল ৩টায় তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন বিটিআরসি কার্যালয়ের সামনে লাগাতার গণঅবস্থাণ শুরু করলে বিটিআরসির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। ওই বৈঠকেও গোলাম মাওলা ভুইয়া ওই কস্ট মডিউলের অজুহাত দেখান। গোলাম মাওলা ভুইয়া জানান, আইএসপি/ অপারেটরগুলোকে কস্ট মডিউলের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়েছে এবং এর পর পরই ঘোষণা করা হবে।

এমতবস্থায় কস্ট মডিউল ছাড়াই বিটিআরসির গ্রাহক পর্যায়ে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সার্ভিসের দাম নির্ধারণ করেছে ৬ গিগাবাইটের মাসিক প্যাকেজের জন্য সর্বোচ্চ ৬০০টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এই মূল্যহার অস্বাভাবিক বেশি এবং এটি বিটিআরসির দ্বৈতনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন তথা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার নামান্তর। আমরা বিটিআরসির এই অসদাচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলন দেশবাসীর পক্ষে এই মূল্যহার প্রত্যাখান করছে।

জুলীয়াস চৌধুরী বলেন, বর্তমানে গ্রামীণফোনের পি৩ প্যাকেজে ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৫০.০০ টাকার কম এবং টেলিটক থ্রিজি এফ৩ প্যাকেজে গ্রাহকের ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৩৫.০০ টাকার কম। বর্তমানে আইএসপির জন্য প্রতি ১ সেকেন্ডে ১ এমবিপিএস হারে মাসের ব্যান্ডউইথের মূল্য ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। বিটিআরসি থেকে ঘোষিত গ্রাহক পর্যায়ের নতুন মূল্যহারে অবশ্যই ওই অনুপাতে কমাতে হবে।

সভায় বক্তারা দেশের বৃহত্তর উন্নয়নের স্বার্থে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সহজীকরণ ও সহজলভ্য করে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের, ব্যবসা প্রসারের এবং বৈদেশীক মূদ্রা অর্জনের পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখার জন্য বিটিআরসির কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ