রেজিস্ট্রারের কক্ষে হামলা ভাঙচুর : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কক্ষে হামলা ভাঙচুর এবং সহকারী রেজিস্ট্রারকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অধিকতর তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য মো. হানিফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা লিয়াজোঁ কার্যালয়ে সিন্ডিকেট সভা হয়। সভায় ছয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। সাময়িক বহিষ্কার হওয়া ছয় শিক্ষার্থী হলেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আকিব জাবেদ খান ও আল মামুন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রেজা শরীফ ও এনামুল মনি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মিঠুন দে এবং অর্থনীতি বিভাগের সাঈদুর রহমান।

উল্লেখ্য, ৫ জুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রেজিস্ট্রারের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় সহকারী রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনায় ৭ জুন গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় আকিব জাবেদ খান, আল মামুন, রেজা শরীফ ও এনামুল মনির নাম উল্লেখ করে ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ঘটনার শাস্তি দাবিতে আন্দোলনে নামে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ এ সিদ্ধান্ত হলো।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুনর রশীদ খান  বলেন, ‘রেজিস্ট্রারের কক্ষে হামলা, ভাঙচুর এবং তাঁকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা প্রমাণিত হওয়ায় ছয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. শফিউল আলম বলেন, ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও ব্যাপক তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য মো. হানিফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে ওই কমিটিকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার হওয়ার আভাস পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। ওই দাবিতে গত শনি এবং রোববার ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তৃতীয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের চেয়ারম্যানেরা জরুরি বৈঠক করে সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।

About bdsomoy