ব্রেকিং নিউজ

কারাগারে কয়েদির মৃত্যু :আত্মহত্যা বলেই নিশ্চিত হয়েছে কমিটি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে জাকির হোসেন (৩০) নামে এক কয়েদির মৃত্যুর ঘটনায় সেসময় দায়িত্বরত কারারক্ষীদের দায়িত্ব পালনে গাফেলতির প্রমাণ পেয়েছে ডিআইজি (প্রিজন) অসীম কান্ত পালের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। তবে জাকিরের মৃত্যু নিছক আত্মহত্যা বলেই নিশ্চিত হয়েছে কমিটি। আর এ আত্মহত্যার নেপথ্যে কারা কর্মকর্তাদের কোন ভূমিকার প্রমাণ তারা পাননি।

রোববার এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আইজি (প্রিজন) বরাবরে পাঠিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রিজন) অসীম কান্ত পাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাকিরের মৃত্যুর পর ইতোমধ্যে চারজন কারারক্ষী ও দু’জন সুবেদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দায়িত্বে গাফেলতির জন্য তাদের দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিকভাবে কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার এবং কারা অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রাখতে কারাবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে জাকিরের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে পারিবারিক অশান্তি এবং মানসিক হতাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিআইজি (প্রিজন) অসীম কান্ত পাল বলেন, একজন কয়েদি আত্মহত্যা করেছেন, এক্ষেত্রে কারারক্ষীদের দায়িত্বে গাফেলতির বিষয়টি তো উড়িয়ে দেয়া যাবেনা। যাদের বিরুদ্ধে গাফেলতির অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে তো ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশ কয়েক দফা সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

সূত্র জানায়, কমিটি তদন্ত শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৬০ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে কয়েদি, কারারক্ষী, সুবেদার থেকে শুরু করে জেলার, জেল সুপারও আছেন। তাদের বক্তব্যে জাকিরের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে কমিটি। তবে আত্মহত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে উদঘাটন করতে পারেনি কমিটি।

ডিআইজি (প্রিজন) অসীম কান্ত পাল বলেন, আমাদের ধারণা, পারিবারিক অশান্তি ও হতাশা থেকেই জাকির আত্মহত্যা করেছে। জাকির তার স্ত্রীকে অপরিণত বয়সে তুলে এনেছিল। জাকিরের শ্বশুর তার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছিল। ওই মামলায় তার সাজা হয়। জাকিরের শ্বশুর এখনও বিয়ে মেনে নেয়নি। এ নিয়ে চাপা হতাশা থেকে সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছি।

গত ৩ জুন রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম কারা হাসপাতালের তৃতীয় তলায় সিঁড়ির রেলিংয়ে মো. জাকির হোসেন (৩০) নামে এক কয়েদির মৃত্যু হয়। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, জাকির গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। জাকির হোসেন কর্ণফুলী থানার একটি অপরহণ মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তার কয়েদি নম্বর ৮৩৮৫/এ। তবে শুরু থেকেই তার পরিবার অভিযোগ করে আসছে, জাকির আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দু’জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দু’জন প্রধান কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দু’জন সুবেদারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষী দু’জন হলেন, জিয়াবুল ইসলাম ও মো.আলমগীর। প্রধান কারারক্ষীরা হলেন, মোহাম্মদ হোসান এবং আব্দুর রশিদ। স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া দুজন হলেন, সুবেদার আনজু মিয়া এবং হুমায়ন কবির। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ডিআইজি প্রিজন এবং জেল সুপার পৃথক দু’টি কমিটি গঠন করেছেন।

ডিআইজি (প্রিজন) অসীম কান্ত পালের গঠিত কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি নিজেই। অপর দুজন সদস্য হলেন, রাঙ্গামাটি কারাগারের জেল সুপার মাঈনুদ্দিন ভূঁইয়া এবং ফেনী কারাগারের জেল সুপার দিদারুল আলম। জেল সুপারের গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে কারা চিকিৎসক ডা.মোস্তাফিজুর রহমান ও দুজন ডেপুটি জেলার। জেল সুপার মো.ছগীর মিয়া জানান, কারা চিকিৎসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তদন্ত অব্যাহত আছে।

এদিকে জেলহাজতে জাকিরের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার, জেলারসহ ৯জনের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।মামলায় অভিযুক্ত ৯ জন হল, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আহমেদ মুকুল, কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগীর মিয়া, সুবেদার আনজু মিয়া ও হুমায়ন কবির, প্রধান কারারক্ষী মোহাম্মদ হোসেন ও আব্দুর রশিদ, কারারক্ষী মো.আলমগীর ও জিয়াবুল ইসলাম। একই মামলায় ঘটনার সময় দায়িত্বরত ডেপুটি জেলারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

Please follow and like us:

About bdsomoy