মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
প্রচ্ছদজাতীয়এতিমদের অনুদান প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একগুঁয়েমি ও অনুমোদিত...

এতিমদের অনুদান প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একগুঁয়েমি ও অনুমোদিত অর্থের হিস্যা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আটকে গেছে

jamil-Chowdhury-press-confসুনামগঞ্জের দিরাইয়ের বিশিষ্ট সমাজসেবী, জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব জামিল চৌধুরী তার পরিচালিত বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির ভবিষ্যত রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরেও একজন মন্ত্রী ঘুষ দাবি করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির জন্য পাওয়া অনুদান আটকে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ৩০ জুনের মধ্যে এই অনুদান ছাড় করাতে না পারলে প্রকল্প বাতিল হয়ে অর্থ সহায়তা ফেরত যাবে। এ অবস্থায় ওই মন্ত্রীর দেওয়া মামলা এবং তার জেরে জামিল চৌধুরীর পাল্টা মামলা চলছে।

শুক্রবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জামিল চৌধুরী তার অসহায়ত্বের কথা জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরেও বর্তমানে দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ¯্রফে একগুঁয়েমি ও অনুমোদিত অর্থের হিস্যা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা আটকে গেছে।
এতিম ও নিঃস্ব পরিবারের মেয়ে সন্তানদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসিক সুবিধা দিয়ে ২০০৬ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন সুনামগঞ্জের এই বিশিষ্ট সমাজসেবক।
জামিল চৌধুরী জানান, প্রতিষ্ঠানটির সেবামূলক কাজে খুশি হয়েই প্রধানমন্ত্রী এই অর্থ অনুদানের অনুমোদন দেন। সুনামগঞ্জের এমপি বর্তমানে দফতর বিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথমে তাকে অনুদানটি পাওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। কিন্তু যখন অর্থছাড় হওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয় তখনই তিনি অনুদানের ১১ কোটি টাকা থেকে তিন কোটি টাকা দাবি করে বসেন। জামিল চৌধুরী জানান, ২২ কোটি টাকার প্রকল্পের ১১ কোটি টাকা ছাড় হওয়ার পূর্বমুহূর্তে তা আটকে যায়।
সম্পূর্ণ সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন ঘুষ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে জামিল চৌধুরী বলেন, মন্ত্রীকে বিষয়টি কোনোভাবেই বোঝানো সম্ভব হয়নি। তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন, অর্থ ছাড় করতে দেবেন না। এবং সেভাবেই তা আটকে গেছে।
মন্ত্রীর সুপারিশের কাগজ ও পরে তা আটকে দেওয়ার নোট দুটিরই কপি সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন জামিল চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের কাছে গেলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
শিগগিরই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন বলে জানান জামিল চৌধুরী।
অনুমোদিত এই অর্থে বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির তিনটি আবাসিক ও শিক্ষাভবন নির্মাণের কথা ছিলো।
জামিল চৌধুরী বলেন, এতিমদের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদান এভাবে আটকে দেওয়ায় অসহায় মেয়েগুলোর বড় একটি স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এমনটা মেনে নেওয়া যায় না।
দেশ বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই একাডেমি পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে জামিল চৌধুরী বলেন, অনেকেরই ভালোবাসা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি রয়েছে। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের জন্য একটি ব্যবস্থা অবশ্যই হবে। তবে আমি বিষয়টির শেষ পর্যন্ত দেখবো।
জামিল চৌধুরী তার ধন-সম্পদ বিক্রি করে নিজের অর্থেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন। প্রথম শ্রেণী থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করার সুযোগ রয়েছে সম্পূর্ণ আবাসিক এই শিক্ষালয়ে। শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেস, বইখাতা, খাবারসহ সবকিছুই বিনামূল্যে পাচ্ছে।
নিউইয়র্কে এরই মধ্যে তার আহ্বানে সাড়া পেয়েছেন জামিল চৌধুরী। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান ব্রঙ্কসের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিলেটের ছাতক অঞ্চল থেকে আসা নিউইয়র্ক প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন এরই মধ্যে তার ছাতকের একটি জমি এই কাজে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গিয়াসউদ্দিন নিজেও সাংবাদিক সম্মেলনে তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
জামিল চৌধুরী এই আগ্রহের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, এতিম মেয়েদের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদান পাবার শেষ চেষ্টা তিনি করবেন। না পেলেও এমন একটি কাজ কোনোভাবেই থেমে থাকবে না তা তিনিও মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।
জামিল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, আশা করি আদালত থেকে একটি সুবিচার আমরা অবশ্যই পাবো।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ