মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
প্রচ্ছদদেশজুড়েমৌসুমের শুরুতেই মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকের ইলিশ

মৌসুমের শুরুতেই মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকের ইলিশ

মৌসুমের শুরুতেই মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকের ইলিশ। এতে মেঘনার উপকুলীয় অঞ্চল লক্ষ্মীপুরের হাজার হাজার জেলের আনন্দ উচ্ছাসের যেন সীমা নেই। গত ৬-৭ দিন ধরে রাত-দিন মেঘনায় চলছে রূপালী ইলিশ ধরার মহোৎসব। তবে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার পরও চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্্েরাতের কারণে মৌসুম শুরুর আগেই এবার জেলেদের জালে ঝাঁকের ইলিশ ধরা পড়ছে। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ও ইলিশের আকালে জেলেরা মহাজনের দাদন পরিশোধ, ট্রলারের জ্বালানি তেলের খরচ ও সংসারের চাহিদা মেটাতে চরম সংকটে পড়ে। গত কয়েক দিন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা দাদন পরিশোধ ও সংসারের স্বচ্ছলতা মেটাতে দিন রাত মেঘনায় জাল ফেলছে।
সরেজমিন জানাগেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার লুধুয়া মাছঘাট, কটোরিয়া, রামগতির হাট, মতির হাট, বাতির খাল এবং সদর উপজেলার করাতির হাট, মজুচৌধুরীর হাট, রায়পুর উপজেলার চরকাচিয়া, দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরবংশী, হাজিমারা মাছ ঘাটের আড়ত গুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শোভা পাচ্ছে। এ ইলিশ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ছাড়াও পাঠানো হচ্ছে ঢাকা ও চট্রগ্রাম শহরে। আকারে প্রতিটি ইলিশের সাইজ ছোট মাঝারি ও বড়। প্রতিটির ওজন ৪শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি।
বাত্তির খাল মাছঘাট এলাকার জেলে আনোয়ার হোসেন জানান, সাধারণত এমন সময়ে ইলিশ তেমন একটা জালে আসেনা। অসময়ে ইলিশ ধরা পড়ায় তিনি খুব খুশি। দাম বেশ ভাল পাচ্ছেন।
একই এলাকার ইলিশের আড়ৎদার বেলাল হোসেন জানান, গত কয়েকদিন থেকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। উৎসবমূখর পরিবেশে ইলিশ কেনা বেচা হচ্ছে। তবে দাম খুব বেশি। মাঝারি সাইজের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়। তিনি আশা করছেন ইলিশ মৌসুম আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র এই তিন মাসও ইলিশ ধরা পড়বে।
স্থানীয় ইলিশ মাছ ক্রেতা মোঃ সিরাজ মিয়া জানান, গত কয়েকদিন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও ব্যবসায়ীরা এখনো চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করছেন। গতবার এ সময়ে যে ইলিশ ১ হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকায় হালি বিক্রি হয়েছে, তা এখন ১৮শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন জানান, এবছর জেলা মৎস বিভাগের ঝাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। সে জন্যেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি আশা করছেন আগামী ৩ মাসও ইলিশ ধরা পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ